| |

রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ

২৩ আগস্ট, ১৯৬৩ তারিখে ইয়র্কশায়ারের গ্রীনগেটস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

নিখুঁত মানসম্পন্ন বোলিংয়ের কারণে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, উইল্টশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ার ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮২ থেকে ২০০১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ওরচেস্টারশায়ারের উদ্বোধনী বোলারের দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৮২ সালে ৫৭ ও ১৯৮৩ সালে ৪৮ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৮৮ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকান কারি কাপে নাটালের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯০ সালে সর্বাপেক্ষা স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। ২৮.২৯ গড়ে ৭৫ উইকেট পান। এ সাফল্যের কারণে শীতকালে ‘এ’ দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা গমনের জন্যে মনোনীত হন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ দুই বছর অর্থাৎ ২০০০ থেকে ২০০১ সময়কালে ডার্বিশায়ারে অবস্থান করেন।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ২৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ১২৮ রান ও ১৯ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ মে, ১৯৯১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

একই সফরের ৪ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম বলেই উইকেট লাভের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/১১০ ও ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে নেমে উভয় ইনিংসে ১৩ রান করে সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কার্টলি অ্যামব্রোসের দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ সমতায় চলে আসে।

একই সফরের ২৫ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ০* ও ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭৫ ও ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রিচি রিচার্ডসনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। বেশ ভালো খেলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল চূড়ান্ত খেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে পরাজিত হয়েছিল। অংশগ্রহণকৃত ওডিআইগুলো থেকে ৬৮ রান ও ৩০ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।

১৯৯৫ সালে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/১৮ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬* ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অভিষেকধারী ডমিনিক কর্কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণ করে।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলার একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে অ্যালান ডোনাল্ডের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, বৃষ্টিবিঘ্নিত ও মন্দালোকের কবলে পড়া খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ৩/১০৫ ও ৩/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্যারি কার্স্টেনের অসাধারণ ব্যাটিং বদান্যতায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

গল্ফে তাঁর বেশ আসক্তি রয়েছে। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিং জগতের দিকে ধাবিত হন। কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারীর পর থেকে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় অ্যালেক্স হোয়ার্ফ, ক্রিস ব্রড, মাইকেল গফ ও রিচার্ড কেটেলবরা’র সাথে খেলা পরিচালনায় অংশ নেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এমজেআর নামীয় সন্তানের জনক।

সম্পৃক্ত পোস্ট