|

আর্থার উড

২৫  আগস্ট, ১৮৯৮ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ফ্যাগলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৭ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯২৮ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত একাধারে ২২২টি কাউন্টি খেলায় উইকেট-রক্ষণে নিয়োজিত ছিলেন। এ সংখ্যাটি হয়তোবা আরও অধিক হতে পারতো। তবে, ব্রাইটনে অধিনায়ক ব্রায়ান সেলার্স তাঁকে বিশ্রামে পাঠিয়ে পল গিবকে গ্লাভস হাতে নেয়ার সুযোগ করে দেন। ঐ গ্রীষ্মে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে একটি শতক হাঁকিয়েছিলেন ও সহস্রাধিক রান তুলেছিলেন।

১৯৩৮ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র চার টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। বেশ দেরীতে ও শেষ মুহূর্তে তাঁকে টেস্ট খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। ১৯৩৮ সালে নিজ দেশে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৪০তম জন্মদিনের পাঁচদিন পূর্বে পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে ২০ আগস্ট, ১৯৩৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, ইংল্যান্ডের বয়োজ্যেষ্ঠ টেস্ট অভিষেকধারীর মর্যাদা পান। নটিংহাম থেকে লন্ডনের ভাড়া £৭.১৫ পাউন্ড-স্টার্লিং হলে ট্যাক্সি চালকের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন যে, তিনি এ ভ্রমণেরই ভাড়া গুণবেন, গাড়ী ক্রয়ের জন্যে নয়। ইয়র্কশায়ারের তারকা খেলোয়াড় লেন হাটনের ৩৬৪ রান সংগ্রহের পর তিনি মাঠে নেমে দলের একমাত্র ইনিংসে দ্রুতলয়ে ৫৩ রান তুলেন ও দল ৭৭০/৬ হলে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংস ঘোষণা করে। এ পর্যায়ে জো হার্ডস্টাফের সাথে সপ্তম উইকেটে ১০৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৭৯ রানে জয়লাভ করলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।

পরের মৌসুমে আরও তিন টেস্ট খেলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে ঐ টেস্টগুলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৩৯ সালে নিজ দেশে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ঐ খেলায় ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২২ জুলাই, ১৯৩৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৬ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ব্যারন কনস্ট্যান্টাইনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্ট ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

‌একই সফরের ১৯ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯২৭ সালে কাউন্টির পক্ষে প্রথম অংশ নেয়ার পর থেকে স্মরণীয় ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন। প্রত্যেক মৌসুমেই গড়ে ৭০০ রান ও ৬৮ ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ৫৫৫৪ ক্যাচ ও ২১১ স্ট্যাম্পিংসহ মোট ৭৬৫ ডিসমিসাল ঘটিয়েছেন। এছাড়াও, ২১.৪৪ গড়ে ৭৯৯৯ রান তুলেছিলেন। সচরাচর, আট নম্বর অবস্থানে মাঠে নামতেন। দলের সঙ্কটকালীন তার জুড়ি মেলা ভার ছিল। পূর্ববর্তী জুলাইয়ে শেফিল্ডে অনুষ্ঠিত খেলায় ইয়র্কশায়ারের সদস্যরূপে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ৪১ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। একমাত্র উইকেট-রক্ষক হিসেবে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে এক মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি গল্ফ, বিলিয়ার্ডস, স্নুকার ও ব্রিজ খেলায় তাঁর দক্ষতা ছিল। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন ও হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ২০ বছর তাঁকে প্রতিদিন দেখতে যেতেন। ১ এপ্রিল, ১৯৭৩ তারিখে ইয়র্কশায়ারের মিডলটন এলাকায় ৭৪ বছর ২১৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট