১১ জুলাই, ১৯১৩ তারিখে ইয়র্কের অ্যাকম্ব এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

স্কটিশ বংশোদ্ভূত ছিলেন। অক্সফোর্ডভিত্তিক সেন্ট এডওয়ার্ডসে পড়াশুনো করেন। এরপর, কেমব্রিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৯২৮ থেকে ১৯৩১ সময়কালে সেন্ট এডওয়ার্ডস একাদশে অংশ নিয়ে ক্রিকেটীয় প্রতিভা বিকাশে অগ্রসর হন। বিদ্যালয় জীবন শেষ করার পরপরই স্যার জুলিয়ান কানের সাথে কর্মজীবনে নেমে পড়েন। ১৯ বছর বয়সে ১৯৩৩ সালে ব্রিজফোর্ডে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের বিপক্ষে স্যার কান একাদশের সদস্যরূপে খেলে অপরাজিত ২৫ ও অপরাজিত ২৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। একই বছর স্যার কানের ব্যক্তিগত সফরে দলের সাথে কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বারমুডা গমন করেন। আগস্টে অটোয়ার বিপক্ষে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ঐ সফরে সর্বমোট ১১ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, স্কটল্যান্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৫৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ২৮৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১৯ শতক ও ৫১টি অর্ধ-শতক সহযোগে ২৮.০৭ গড়ে ১২৫২০ রান তুলেন। এছাড়াও, ৪২৫টি ক্যাচ ও ১২৩টি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন।

শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। মৌসুমে পাঁচবার সহস্র রানের মাইলফক স্পর্শ করেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৮ সালে ১৬৫৮, ১৯১৫১ সালে ১৩৩০, ১৯৫২ সালে ১৫১৯, ১৯৫৩ সালে ১৩৪২ ও ১৯৫৫ সালে ১২২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৩৪ সালে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের সদস্যরূপে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। নিউজিল্যান্ডীয় তারকা খেলোয়াড় স্টুই ডেম্পস্টারের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নেমেছিলেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। দ্বিতীয় খেলায় উইকেট-রক্ষক ও উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের যৌথ ভূমিকায় সফলতার সাথে খেলেন। ১৯৩৫ সালে মাইনর কাউন্টিজের সদস্যরূপে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ২৩ ও ২৮ এবং ৭টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন।

১৯৩৮ থেকে ১৯৪৬ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। এ সফরে তাঁর দল অপরাজিত অবস্থায় নিজ দেশে ফিরে আসে। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখ থেকে শুরু হওয়া জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। লেন উইলকিনসননরম্যান ইয়ার্ডলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টে ১০৬ রানের মনোজ্ঞ শতক হাঁকানোর রেকর্ড গড়েন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৯৩ রান তুলে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তী তিন টেস্টে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

এরপর, ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১২০ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে লেন হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৯ নভেম্বর, ১৯৪৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ১১ রান তুলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ৩৩২ রানে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ৯টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও ৭টি লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ইয়র্কের লর্ড মেয়রের কন্যার সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে সারের গিল্ডফোর্ড এলাকায় ৬৪ বছর ১৪৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট