২২ অক্টোবর, ১৯৯৭ তারিখে মুম্বইয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।
তাঁর পিতা এনএ খান ও ভ্রাতা মুশির খান প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বই, বহিঃভারত ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ক্যাপিটালস, ভারত অনূর্ধ্ব-১৯, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, মুম্বই অনূর্ধ্ব-১৯ ও রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত বাংলার বিপক্ষে খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
১২ বছর বয়সেই খ্যাতির শিখরে পৌঁছেন। হ্যারিস শীল্ড আন্তঃবিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভঙ্গ করে নিজের করে নেন। রিজভি স্প্রিংফীল্ডের সদস্যরূপে ৫৬টি চার ও ১২টি ছক্কায় ৪৩৯ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে মেলে ধরার পূর্বে মুম্বই ক্রিকেট সংস্থা থেকে বয়সে কারচুপির অভিযোগ আসে। পরবর্তীতে অবশ্য এ অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পান।
২০২৪ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্টে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে রাজকোটে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ধ্রুব জুরেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে নিয়ে ৬২ ও ৬৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। রবীন্দ্র জাদেজা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৪৩৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। এছাড়াও, ধর্মশালা টেস্টে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সবমিলিয়ে পাঁচ টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের তিন টেস্টে ৫০.০০ গড়ে ২০০ রান সংগ্রহ করেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৬ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের সন্ধান পান। এছাড়াও, টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। ০ ও ১৫০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রচিন রবীন্দ্র’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দলের প্রায় সকলের ন্যায় তিনিও ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ০ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। তবে, এজাজ প্যাটেলের স্মরণীয় বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা মাত্র ২৫ রানে জয়লাভ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
মুম্বই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ব্যতিক্রমধর্মী মৌসুম অতিবাহিত করেন। পিতা ও কোচ নওশাদ খানের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে নিজেকে গড়ে তুলেন। ২০১৩ সালে চতুঃর্দেশীয় সিরিজ খেলতে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। উল্লেখযোগ্য দিক ছিল – দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৬৬ বলে ১০১ রানের শতক হাঁকিয়েছিলেন।
এরপর, ২০১৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পান। ছয় খেলা থেকে ৭০.৩৩ গড়ে ২১১ রান সংগ্রহ করেন। এরফলে, পরবর্তী স্তরের ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়। ২০১৫ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর কর্তৃপক্ষ ₹৫০ লক্ষ ভারতীয় রূপীর বিনিময়ে ক্রয় করে। এরফলে, আইপিএলে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। এক বছর পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ছয় খেলা থেকে ৩৫৫ রান সংগ্রহ করেন। প্রায়শঃই দলের ভঙ্গুর সূচনা থেকে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে মুম্বই ত্যাগ করে উত্তরপ্রদেশে চলে যান।
