|

ঈশান কিশন

১৮ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে বিহারের পাটনায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং উদ্বোধন করেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিচ্ছেন।

২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বিহার, পূর্বাঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, গুজরাত লায়ন্স ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন। এমএস ধোনি’র ন্যায় তিনিও ঝাড়খণ্ড থেকে এসেছেন। ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত আসাম বনাম ঝাড়খণ্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম দশটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে একটি শতক ও পাঁচটি অর্ধ-শতকের সন্ধান পান।

২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারত দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাস্ত হয়ে তাঁর দল রানার্স-আপ হয়েছিল। ভারত দল সফলতার স্বাক্ষর রাখলেও তিনি সিমার উপযোগী পিচে বেশ হিমশিম খেয়েছিলেন। ছয় খেলা থেকে মাত্র ৭৩ রান তুলেছিলেন।

অক্টোবর, ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো নিজেকে মেলে ধরেন। রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় সৌরাষ্ট্রের বিপক্ষে আটটি ছক্কা সহযোগে ৬৯ বল থেকে ৮৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এর দুই মাস পর, শ্রীলঙ্কায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ডের অংশগ্রহণে ত্রি-দেশীয় একদিনের খেলায় অংশ নেন।

আক্রমণাত্মক ধাঁচের ব্যাটিংয়ের কারণে ১৭ বছর বয়সে ২০১৬ সালের আইপিএল নিলামে গুজরাত লায়ন্স কর্তৃপক্ষের সাথে ₹৩৫ লক্ষ রূপীর (প্রায় $৫২,০০০ মার্কিন ডলার) বিনিময়ে খেলার জন্যে চু্ক্তিবদ্ধ হন।

২০২৩ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ঐ বছর রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১২ জুলাই, ২০২৩ তারিখে রোজিওতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। যশস্বী যশওয়ালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন ও ১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দূর্দান্ত বোলিং ও যশস্বী যশওয়ালের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে তাঁর দল ইনিংস ও ১৪১ রানে জয়লাভ করে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

দ্বিতীয় টেস্টে বেশ ভালো খেলেন। ২০ জুলাই, ২০২৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২৫ ও ৫২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ সিরাজের অসামান্য বোলিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। ঐ সিরিজে তাঁর দল ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।

সম্পৃক্ত পোস্ট