৪ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১৯-২০ মৌসুমের প্রো৫০ চ্যাম্পিয়নশীপে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের পক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। এরপূর্বে ২০২০ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সহঃ অধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এছাড়াও, ২০১৬ ও ২০১৮ সালের একই প্রতিযোগিতায় দলের সদস্য ছিলেন। তন্মধ্যে, ২০১৮ সালের প্রতিযোগিতা শেষে দলের অন্যতম উদীয়মান তারকা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত হন।
২০১৯-২০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে হারারেতে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের সদস্যরূপে মাউন্টেনিয়ার্সের বিপক্ষে ২০১৯-২০ মৌসুমের লোগান কাপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। একই মাসে বাংলাদেশ সফরে জিম্বাবুয়ের ওডিআই ও টি২০আই দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ডিসেম্বর, ২০২০ সালে ঈগলসের সদস্যরূপে ২০২০-২১ মৌসুমের লোগান কাপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন।
২০২০ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১ মার্চ, ২০২০ তারিখে সিলেটে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। ৯ মার্চ, ২০২০ তারিখে ঢাকায় একই দলের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ৭ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপূর্ব খেলেন। ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে, বাবর আজমের ৮২ রানের বদৌলতে তাঁর দল পরাজিত হয়।
২০২০-২১ মৌসুমে শন উইলিয়ামসের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। সেখানে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হন। ২ মার্চ, ২০২১ তারিখে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। জিম্বাবুয়ে দল ১০ উইকেটে জয়লাভ করে।
এরপর, ১০ মার্চ, ২০২১ তারিখে একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। উভয় ইনিংসেই সাঈদ সিরজাদের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল পরাজিত হলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যান্ডি বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের মুখোমুখি হন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৬ ও ৮৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬৩ রানে পরাজিত হয়।
২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ক্রেগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। খেলায় তিনি ০ ও ৩১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক বেন স্টোকসের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। শোয়েব বশীরের অনবদ্য বোলিং কৃতিত্বে সফরকারীরা চারদিনের টেস্টটি তিনদিনেই পরাজয়বরণ করে। ইনিংস ও ৪৫ রানে জয়লাভ করে ইংল্যান্ড দল। এরফলে, ইংল্যান্ড দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের চারটিতে জয়লাভ করে ও একটি ড্র হয়।
২০২৫ সালে নিজ দেশে কেশব মহারাজের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৮ জুন, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/১০ ও ১/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৫ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। লুয়ান-ড্রি প্রিটোরিয়াসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩২৮ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৬ জুলাই, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৫ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা উইয়ান মুল্ডারের অসাধারণ ত্রি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা খুব সহজেই ইনিংস ও ৩২৮ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে বিজয়ী হয়।
