২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২ তারিখে ওতাগোর র্যানফার্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘পিস্টল’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। অফ-স্পিনার হিসেবে খেলতেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৮০-৮১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৩৩ বছর বয়সে এসে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের এক বছর পর জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। পেশায় তিনি মেকানিক ছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে ওতাগো দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তিনিও দলটিকে নিরাশ করেননি। ২০.১৬ গড়ে ৪২ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, শেল কাপে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ইনিংসে ৯/৯৩ পেয়েছিলেন।
১৯৭৬ থেকে ১৯৭৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অকল্যান্ড টেস্টে কেবলমাত্র একবার মাত্র চার ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ টেস্ট খেলেন। পাঁচটিতে তাঁর দল পরাজয়বরণ করে। ৪২.৫৬ গড়ে ১৬ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে জন পার্কারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ৩৪ বছর বয়সে ৯ অক্টোবর, ১৯৭৬ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। রবার্ট অ্যান্ডারসন ও ওয়ারেন লিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম নিউজিল্যান্ডীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাট্রিক করার গৌরবের অধিকারী হন ও অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। পরবর্তীতে, জেমস ফ্রাঙ্কলিন তাঁর এ কৃতিত্বের সাথে যুক্ত হন। এরফলে, মরিস অলম ও ড্যামিয়েন ফ্লেমিংয়ের সাথে তিনজন বোলারের অন্যতম হিসেবে টেস্ট অভিষেকে হ্যাট্রিক করেছেন। ঐ বছর পূর্বে ওতাগোর পক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন শুরু হয়েছিল। তিনি একে-একে অভিষেকধারী জাভেদ মিয়াঁদাদসহ ওয়াসিম রাজা ও ইন্তিখাব আলমকে বিদেয় করেছিলেন। এ পর্যায়ে অপর অভিষেকধারী জাভেদ মিয়াঁদাদ (১৬৩) ও আসিফ ইকবালের (১৬৬) মধ্যকার পঞ্চম উইকেটে ২৮১ রানের জুটি ভেঙ্গে ফেলেন ও নিজের প্রথম টেস্টের প্রথমদিনে হ্যাট্রিক করেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় এম.জে.সি. অলমের পর তিনি এ সফলতা পান। তাসত্ত্বেও ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। কেবলমাত্র একবারই নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। বাদ-বাকী টেস্টগুলোয় ব্যর্থতায় ভরপুর ছিল।
একই মৌসুমে গ্লেন টার্নারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ১৮ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হন। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/১০৯ ও ০/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন। ঐ মৌসুমে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা প্রায় দুইদিন বাকী থাকতেই ১০ উইকেটে জয় তুলে নিলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
দূর্ভাগ্যবশতঃ ১৯৭৮ সালের ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে দলের সদস্য করা হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর ওয়েলিংটনে চলে যান ও সেখানে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত খেলেন। সব মিলিয়ে ৫২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ২৪.৪৭ গড়ে ১৮৯ উইকেট দখল করেছিলেন।
৭ জুন, ২০১৫ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে ৭২ বছর ২৫৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
