|

চামিকা গুণাশেখরা

২৫ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআই খেলছেন।

কলম্বোর আনন্দ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বি-লাভ ক্যান্ডি, জাফনা কিংস, এসএলসি গ্রেজ, শ্রীলঙ্কা ‘এ’ ও শ্রীলঙ্কা এমার্জিং দলের পক্ষে খেলেছেন। ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে কলম্বোর এনসিসিতে অনুষ্ঠিত নন্দেস্ক্রিপ্টস বনাম রাগামা সিসি’র মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

খুব ছোটবলা থেকেই ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়েন। পরিবারের তিন সন্তানের সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে অপর দুই জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার সাথে একত্রে খেলতেন। তিন বছর বয়সে পিতাকে হারান। এরপর থেকে মাতা পরিবারকে দেখাশুনো করতে থাকেন। সকলের সহযোগিতা ও উদ্দীপনায় নিজেকে দেশের উঁচু স্তরের ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। ফাস্ট বোলার হিসেবে চামিন্ডা ভাস, লাসিথ মালিঙ্গা ও অস্ট্রেলীয় বামহাতে ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ককে তালিকার শীর্ষস্থানে রাখেন।

বিদ্যালয়ের নবম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট খেলেন। নয় বছর বয়সে বিদ্যালয়ের ক্রিকেট একাডেমিতে যোগ দেন। সেখানে অনূর্ধ্ব-১৩ দলে খেলেন। অনূর্ধ্ব-১৫ দলে সজিত রুপাসিংহে ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলে রোহন সয়সা’র কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়াও, প্রথম একাদশের কোচ সঞ্জিবা রানাতুঙ্গা’র সান্নিধ্য পান। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত উপর্যুপরী তিন বছর প্রথম একাদশে খেলেন। প্রথম বছরে বিদ্যালয়ের পোশাকে খেলেন ও শেষ বছরে সহঃঅধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। বিদ্যালয় জীবনে দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে বয়সভিত্তিক সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়ে অগণিত চ্যাম্পিয়নশীপ জয় এনে দেন। তিনবার আনন্দ-নালন্দা বিগ ম্যাচে অংশ নিয়ে অন্যতম বর্ণাঢ্যময় স্মরণীয় মুহূর্তে সাথে যুক্ত হন। এরপর, শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ঐ স্তরের ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেননি।

২০২২ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে হাশমতউল্লাহ শহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের মুখোমুখি হন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কাসুন রজিতাকে পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। প্রভাত জয়সুরিয়া’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিক দল খুব সহজে ১০ উইকেটে জয়লাভ করলেও তাঁর জন্যে সুখকর হয়নি। তৃতীয় দিনের শুরুতে দলীয় সংগ্রহ ৪৩৯/৮ থাকাকালে ব্যক্তিগত ১৬ রানে তাঁকে রিটায়ার্ড হার্ট হতে হয়। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫০ রান খরচায় কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। নাভিদ জাদরানের নিচু হয়ে আসা বলকে যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হলে হ্যালমেট পরিহিত অবস্থায় মাথায় আঘাত হানে।

সম্পৃক্ত পোস্ট