ফ্রেডরিক স্পফোর্থ

৯ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বলমেইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ২ ইঞ্চির দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। ‘দ্য ডেমন’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম প্রকৃত মানসম্পন্ন ফাস্ট বোলারের মর্যাদা পান। ১৮৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন।

১৮৭৭ থেকে ১৮৮৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে জেমস লিলিহোয়াইট জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ১৮৭৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। থমাস কেলি ও বিলি মারডকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলায় চার উইকেট পান। খেলায় তিনি ৩/৬৭ ও ১/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ১৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ঐ খেলায় সফরকারীরা ৪ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে লর্ড হ্যারিসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৮৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১১০ রান খরচায় ১৩ উইকেট দখল করেন। খেলায় তিনি ৬/৪৮ ও ৭/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ভার্নন রয়েল, ফ্রান্সিস ম্যাককিনন ও টম এমেটকে উপর্যুপরী বলে বিদেয় করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করেছিল।

১৮৮২ সালে ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯০ রান খরচায় ১৪ উইকেট লাভ করেন। ঐ খেলায় তাঁর দল সাত রানের নাটকীয় জয় পায়। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যে-কোন অস্ট্রেলীয় বোলারের এটি সেরা সাফল্য হিসেবে রয়ে যায়।

১৮৮৪ সালে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ জুলাই, ১৮৮৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ৫ রানের ব্যবধানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে দলের সংগ্রহ ১৬৩ রানে গুটিয়ে গেলেও তিনি ৫০ রান তুলে শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে মেলবোর্ন টেস্টে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে এ কৃতিত্বের পরিচয় দেন। ঐ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন দলের মুখোমুখি হন। অবশ্য, ২১ মার্চ, ১৮৮৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। রাবার নিষ্পত্তির ঐ খেলায় বল হাতে নিয়ে ২/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৯৮ রানে পরাভূত হলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৮৮৬ সালে টাপ স্কটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১২ আগস্ট, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১ ও ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১৭ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ জানুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২ ওভার বোলিং করে ১/১৭ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় ইংল্যান্ড দল ১৩ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ১৮.৪১ গড়ে ৯৪ উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৪.৯৫ গড়ে ৮৫৩ উইকেট লাভ করেছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ইংল্যান্ডে অভিবাসিত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। স্টার টি কোম্পানী নামীয় শ্বশুরের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৪ জুন, ১৯২৬ তারিখে ইংল্যান্ডের ডিটন হিল লজ এলাকায় ৭২ বছর ২৬৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে তাঁকে মরণোত্তর স্পোর্টস অস্ট্রেলিয়া হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *