২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের বার্মিংহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
রোচডেলভিত্তিক ম্যাথু মস হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১২ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে উচ্চ স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৭ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের ডেভেলপম্যান্ট প্রোগ্রাম বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। ২০১৫ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রথম একাদশের সদস্যরূপে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে টি২০ ব্লাস্টে প্রথম খেলেন। পরবর্তী বছর অপর দুই ধরনের খেলায় অংশ নেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে ছয় খেলা থেকে ১৩ উইকেট দখল করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তিনি তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। ২০১৭ সালের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ায় লায়ন্সের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেন। পেসার হিসেবে ঘণ্টাপ্রতি ৯০ মাইল গতিবেগে বোলিং করতে পারেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে পুরনো বলকে রিভার্স করাতে সক্ষম।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ওভাল ইনভিন্সিবলস, পেশাওয়ার জালমি, সিডনি থান্ডারের পক্ষে খেলেছেন। ৪ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে সাউদাম্পনে অনুষ্ঠিত হ্যাম্পশায়ার বনাম ল্যাঙ্কাশায়ারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০১৯ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৩ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০২১-২২ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ১৬ মার্চ, ২০২২ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ম্যাথু ফিশারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৫৮ ও ২/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কোন ইনিংসেই তাঁকে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি। ক্রেগ ব্রাদওয়েটের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, একই সফরের ২৪ মার্চ, ২০২২ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৯ ও ৩* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪৫ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জশুয়া ডা সিলভা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
অভিষেক পর্বকে বেশ স্মরণীয় করে রেখেছিলেন। এরপর, জাতীয় দলের খেলার সুযোগ সৃষ্টিতে আইপিএলে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকেন। পাকিস্তান সুপার লীগে পেশাওয়ার জালমির পক্ষে খেলেন ও নিজেকে শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত করেন। পাঁচ খেলা থেকে ১২ উইকেট দখল করেন। ২০২১ মৌসুমের শুরু থেকে ল্যাঙ্কাশায়ার দলে চমৎকার ছন্দে অবস্থান করেন। বিগ ব্যাশ লীগে সিডনি থান্ডারের পক্ষে স্বপ্নীল অভিষেক ঘটে। প্রথম দুই ওভার থেকে চার উইকেট লাভ করেছিলেন। এপ্রিল, ২০২২ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে একটিমাত্র খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। তবে, আঘাতের কবলে পড়েন। মে, ২০২২ সালে পিঠের আঘাতের কারণে মৌসুমের বাদ-বাকী সময়ে খেলা থেকে দূরে থাকার ঘোষণা দেন। জুলাই, ২০২২ সালে নতুন করে দুই বছরের চুক্তিতে এমিরেটস ওল্ড ট্রাফোর্ডে ২০২৪ সাল পর্যন্ত খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
