|

ফিল মিড

৯ মার্চ, ১৮৮৭ তারিখে লন্ডনের ব্যাটারসী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

বেশ শক্তি প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্ট্রোক-প্লে খেলতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেও একই ধারায় বহমান রেখেছিলেন। চুক্তি নবায়ণ না করায় কিশোর বয়সেই হ্যাম্পশায়ারে চলে যান। ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনয়ণের ফলে বেশ কয়েকটি স্মরণীয় রেকর্ডের সাথে স্বীয় নামকে জড়ান।

১৯০৫ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ত্রিশ বছর হ্যাম্পশায়ার দলের প্রধান ব্যাটিং চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছিলেন নিজেকে। কেবলমাত্র জ্যাক হবস, ফ্রাঙ্ক ওলিপ্যাটসি হেনড্রেন তাঁর সংগৃহীত ৫৫০৬১ রানের তুলনায় অধিক প্রথম-শ্রেণীর রান সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু, অন্য কেউই কোন দল থেকে তাঁর ৭০০ খেলা থেকে সংগৃহীত ৪৮৮৯২ রান তুলতে পারেননি।

১৯১১ থেকে ১৯২৮ সময়কালে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। টেস্টগুলো থেকে ৪৯-এর অধিক গড়ে রান তুলেছিলেন। দুইবার অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১৯১১-১২ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফ্রাঙ্ক ফস্টার, ইয়ং জ্যাক হার্ন, জনি ডগলাস ও সেপ কিনিয়ারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৪৬ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৫৭ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৬ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। খেলায় তিনি ১০২ রান সংগ্রহ করেন। ইনিংস ও ১২ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০২ রান অতিক্রম করেন। সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নিয়ে তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯২২-২৩ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯২৮-২৯ মৌসুমে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৪১ বছর বয়সে ৩০ নভেম্বর, ১৯২৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৭৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ক্ল্যারি গ্রিমেটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ৬৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাস্ত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এছাড়াও, ১৯২১ সালে ওভাল টেস্টে প্রবল শক্তিধর ও সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৮২ রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন। প্রচলিত রয়েছে যে, দ্বিতীয় সফরে জনৈক বয়ষ্ক ভদ্রলোক তাঁকে বলেছিলেন – ‘আমার স্পষ্ট মনে আছে তোমার পিতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে এখানে খেলেছিলেন।’

১৯৩৬ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর, ১৯৩৮ ও ১৯৩৯ সালে সাফোকের পক্ষে খেলেন। উভয় মৌসুমে তিনি দলের শীর্ষ ব্যাটসম্যানে পরিণত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হ্যাম্পশায়ার থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলা দেখতেন। এ পর্যায়ে তাঁর চোখে গুরুতর সমস্যা ধরা পড়ে।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এমসিসি’র সম্মানীয় আজীবন সদস্যের মর্যাদা পান। পরবর্তীতে হ্যাম্পশায়ারের নর্থল্যান্ডস রোডের একটি স্ট্যান্ড তাঁর সম্মানার্থে নামকরণ করা হয়। জীবনের শেষদিকে প্রায় দশ বছর অন্ধত্বের কবলে পড়েন। অতঃপর, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ সংক্রান্ত জটিলতার কবলে পড়লে অস্ত্রোপচার করা হয়। অতঃপর, ২৬ মার্চ, ১৯৫৮ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের বসকম্ব এলাকার হাসপাতালে ৭১ বছর ১৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    প্রভাত জয়সুরিয়া

    ৫ নভেম্বর, ১৯৯১ তারিখে মাতালে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মাতালেভিত্তিক ক্রাইস্টচার্চ কলেজ ও কলম্বোভিত্তিক লাম্বিনি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব ও…

  • | |

    মুশতাক আহমেদ

    ২৮ জুন, ১৯৭০ তারিখে পাঞ্জাবের শাহিওয়াল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। বুদবুদপূর্ণ, গোলকার গড়নের লেগ-স্পিনার। গুগলিতে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। আব্দুল কাদিরকে স্বীয় পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেন। বোলিংয়ের ধরন অনেকাংশেই তাঁর…

  • | |

    বিজয় দাহিয়া

    ১০ মে, ১৯৭৩ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান-উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংকর্মে অগ্রসর হতেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দৃষ্টিনন্দন খেলা উপহারের তুলনায় নিজেকে গুটিয়ে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি মারকুটে ব্যাটিং করতেন না কিংবা নিজস্ব ভঙ্গীমায়ও তেমন দর্শনীয় খেলতেন না। তাসত্ত্বেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাথে…

  • |

    তাবিশ খান

    ১২ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, করাচী ব্লুজ, করাচী ডলফিন্স, করাচী কিংস, করাচী রিজিওন ব্লুজ, করাচী আরবান ও…

  • |

    রবার্ট স্টুয়ার্ট

    ৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আজমগড় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংকর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৭২ থেকে ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েলিংটন একাদশের পক্ষে খেলেন। তন্মধ্যে, ১৮৭৪ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এ পর্যায়ে তিনি ৩৩ গড়ে ৭৪৫…

  • |

    জেমস ম্যাককলাম

    ১ আগস্ট, ১৯৯৫ তারিখে জন্মগ্রহণকারী আইরিশ ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে থাকেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বেলফাস্টভিত্তিক মেথডিস্ট কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর আইরিশ ক্রিকেটে নর্দার্ন নাইটস দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২৮ মার্চ, ২০১৭ তারিখে ব্রিস্টলে ডারহাম এমসিসিইউ’র সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে।…