২০ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে যশোরের খাড়কি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০২১-২২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে খুলনা বিভাগ ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ধানমন্ডি ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। উইকেটের চতুর্দিকেই শট খেলায় পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ২০০০-এর দশকের শুরুরদিকে উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়দের অন্যতম ছিলেন।
২০০১ থেকে ২০০৭ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে সব মিলিয়ে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও ৪১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৩ নভেম্বর, ২০০১ তারিখে চট্টগ্রামে সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। এরপর, জানুয়ারি, ২০০২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজস্ব তৃতীয় ওডিআইয়ে মনোমুগ্ধকর ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, ঐ খেলায় তাঁর দল পরাজয়বরণ করে। এর কয়েক মাস পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করে ৬১ রান। দূর্ভাগ্যবশতঃ এগুলোই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ রান ছিল।
২০০২ সালে খালেদ মাসুদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৮ জুলাই, ২০০২ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অলোক কাপালী ও তাপস বৈশ্যের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৮ ও ২৮ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। মাইকেল ভ্যানডর্টের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় ঐ টেস্টে তাঁর দল ২৮৮ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০২-০৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে খালেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৮ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে ইস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। গ্রায়েম স্মিথের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১০৭ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৭ সালে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১১ জুলাই, ২০০৭ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ১৭ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মুত্তিয়া মুরালিধরনের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৯৩ রানে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
দূর্ভাগ্যবশতঃ উভয় স্তরের ক্রিকেটে নিজেকে তেমন মেলে ধরতে পারেননি। এ সময়ে অধিকাংশ সময়ই দুই অঙ্কের রান তুলতে ব্যর্থ হন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরের খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে তাঁকে প্রায় পাঁচ বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ২০০৭ সালের শেষদিকে কুইন্সটাউনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে সর্বশেষ অংশ নেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও খুলনার সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৬ মার্চ, ২০০৮ তারিখে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন টি২০ ক্রিকেট লীগের শিরোপা বিজয়ী আবাহনী লিমিটেড ক্লাবের নেতৃত্ব দেন।
