|

তারেক আজিজ

৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘তারেক’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগ ও ঢাকা মেট্রোপলিসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮ বছর বয়সে পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নেন। চট্টগ্রাম জেলার পক্ষে নিজস্ব প্রথম খেলায় খুব কমই ভূমিকা রেখেছিলেন। খেলায় ঐ সময়ের বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টেস্ট ব্যাটসম্যান অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের স্ট্যাম্প ইন-কাটারের সাহায্যে উপরে ফেলেন। এরপর, উপর্যুপরী দুইবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। দুই মাস পর একদিনের খেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

২০০২ থেকে ২০০৪ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও ১০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২২ জানুয়ারি, ২০০২ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত খেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ করেন। খেলায় ৩/১৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। তবে, পরবর্তী কয়েকটি খেলায় দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে তিন বছর দলের বাইরে থাকেন। কিন্তু, মার্চ, ২০০৪ সালে পুণরায় দলে ফিরে আসেন।

২০০৪ সালে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৮ মে, ২০০৪ তারিখে গ্রোস আইলেটে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফয়সাল হোসেনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৬* ও ১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ ও সমসংখ্যক রান-আউটের সাথে জড়িতে ছিলেন। এছাড়াও, ১২৬ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১০ মার্চ, ২০০৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে দারুণ খেলেন। ছয় ওভারে ৩/৩৮ লাভের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি ঘটান। তন্মধ্যে, চূড়ান্ত ওভারে দুই উইকেট পান। তবে, মোহাম্মদ আশরাফুলের ৩২ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে গত পাঁচ বছরের মধ্যে একদিনের আন্তর্জাতিকে বাংলাদেশ দলের প্রথম বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। খেলায় সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পায় ও পাঁচ-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

জুলাই, ২০০৪ সালে নিজের সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। এ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৯ অক্টোবর, ২০০৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৯ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

খেলার মান ক্রমশঃ নিচেরদিকে চলে যেতে থাকে ও নতুনদের জায়গা দিতে দলের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন। এরপর থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রথম-শ্রেণীভুক্ত ক্রিকেটার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট