২৬ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ডেনিলিকুইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলিংয়ের উপরই অধিক জোর দিতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী উপহার দিতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

অ্যাসাম্পশন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী অস্ট্রেলীয় অল-রাউন্ডার ছিলেন। বিদ্যালয় জীবনেই প্রতিভাবান ফুটবলারের খ্যাতি অর্জন করেন। পিতা কেভিনের পদাঙ্ক অনুসরণে ভিএফএলে সেন্ট কিল্ডা’র পক্ষে খেলতে থাকেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে ২৪ খেলায় অংশ নিয়ে ১৮ গোল করেন। কিন্তু, ২১ বছর বয়সে শেফিল্ড শীল্ডের অভিষেক খেলায় শতরানের সুবাদে ফুটবল খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন।

১.৯১ মিটার উচ্চতা ও ৯৩ কেজি ওজনের অধিকারী। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নর্দাম্বারল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। খেলায় তিনি চার উইকেট লাভসহ ১৩০ রানের ইনিংস খেলেন। ঘরোয়া আসরে ক্রমাগত সাফল্যের সন্ধান পেতে থাকেন। ১৯৯০ সালের শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা বিজয়ী ভিক্টোরিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৯৮৫ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও ৮৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

১৯৮৫ সালে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৩ জুন, ১৯৮৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ২৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ইয়ান বোথামের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭৭ ও ৩/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, টিম রবিনসনের অসাধারণ ব্যাটিং দাপটে সফরকারীরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৮ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তবে, রিচার্ড হ্যাডলি’র অনবদ্য অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪১ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২২ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন। সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তিনি ২০* ও ২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ ও ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। জন ব্রেসওয়েলের প্রাণান্তঃকর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ন্যায় টেস্টে একই ধারা বহমান রাখতে পারেননি। টেস্টগুলো থেকে মাত্র ২০৬ রান ও ৮৪ গড়ে ছয়টি উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ও দলের শিরোপা বিজয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। বিশ্বকাপ শেষে ক্যান্সারের চিকিৎসা করেন ও সফলতার সাথে পরবর্তী ১২ মাস পর সুস্থ হয়ে উঠেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলেও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ঘোড়দৌড়েও সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্য কর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন। চ্যানেল নাইনে ঘোড়দৌড়, ক্রিকেট ও ফুটবল ধারাভাষ্যে যুক্ত রয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। টিজে ও’ডোনেল নামীয় সন্তানের জনক।

সম্পৃক্ত পোস্ট