|

রোলি জেনকিন্স

২৪  নভেম্বর, ১৯১৮ তারিখে ওরচেস্টারের রেইনবো হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম জনপ্রিয়, দক্ষ ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে লেগ-ব্রেক ও গুগলি বোলিংয়ের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। পরিবারের দশ সন্তানের সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। ওরচেস্টার রেসকোর্সে তাঁর প্রতিভা বিকশিত হয়। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৮ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯৩৮ সালে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন ও ১৯৩৯ সালে ক্যাপধারী হন। বিশ্বযুদ্ধের পর পুণরায় ক্রিকেট খেলা শুরু হলে নিজেকে মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ও ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন স্পিনারে পরিণত করেন। ১৯৪৮ মৌসুম শেষে ১৩৫৬ রান ও ৮৮ উইকেট দখল করেন। বিবাহের শেষ মুহূর্তের পরিকল্পনা গ্রহণকালে টেলিগ্রাম বার্তা পান ও দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাঁকে এরিক হোলিসের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এরফলে, তাঁর বিবাহ অনুষ্ঠান স্থগিত হয়।

১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র নয় টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে জর্জ মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। এ সিরিজে ইংল্যান্ডের বোলিং গড়ে শীর্ষ স্থানে ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জর্জ মান ও রেগ সিম্পসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাপক অর্থেই এ সফরটি তিনি সফলতার সাথে কাটিয়েছিলেন। নিজস্ব তৃতীয় বলেই এরিক রোয়ানের উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ১/৫০ ও ৩/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৪৬ ও ৪/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

এরপর, ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৩৯ ও ০/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৫ মার্চ, ১৯৪৯ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ৩/৫৩ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৫০ সালে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুন, ১৯৫০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ৫/১১৫ পেয়েছিলেন তিনি। খেলার প্রথম দিনে চা বিরতির পর বিশ মিনিটব্যাপী বোলিংয়ের সুযোগ পান। সাত ওভার থেকে ক্লাইড ওয়ালকট, রে ও গোমেজের উইকেট তুলে নেন। পাঁচ-উইকেট লাভের স্বীকৃতিস্বরূপ লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে যুক্ত করে নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আরও চার উইকেট পান। তন্মধ্যে, ক্লাইড ওয়ালকট ও অধিনায়ক জন গডার্ডের উইকেট ছিল। তাসত্ত্বেও ইংল্যান্ডের মাটিতে ক্যারিবীয় দলের প্রথম বিজয় রুখতে পারেননি। স্বাগতিক দল ৩২৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে।

এরপর, ২০ জুলাই, ১৯৫০ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৯ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭৩ ও ০/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১০ উইকেটে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫২ সালে নিজ দেশে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৫ জুন, ১৯৫২ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৭৮ ও ৪/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৯ জুন, ১৯৫২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৬ ও ০/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২২ জুলাই, ১৯৯৫ তারিখে ওরচেস্টারে ৭৬ বছর ২৪০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট