৩ জুন, ১৯৭৯ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন ও মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ফ্যালকন কলেজের ছাত্র ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সর্বক্রীড়ায় পারদর্শী ছিলেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি টেনিস, স্কোয়াশ ও হকি খেলতেন। তন্মধ্যে, ১৯৯৭ সালে হকিতে ফ্যালকন প্রথম একাদশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বন্দুক চালনা ও মৎস্য শিকারকে শখের তালিকার প্রথমদিকে রেখেছেন।
একাডেমি দলের সাবেক ও প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় ছিলেন। টাটেন্ডা তাইবু’র ন্যায় হারারের শহরতলী হাইফিল্ডে জন্মগ্রহণ করেন। জেডসিইউ বৃত্তি লাভের ফলে চার্চিল হাই স্কুলে অধ্যয়নের সুযোগ পান। বামহাতে ব্যাটিং উদ্বোধন করতেন ও উইকেট-রক্ষণে নিযুক্ত থাকতেন।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে মনিকাল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মুতারে স্পোর্টস ক্লাবে খেলেছেন। ২৭ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে আলেকজান্দ্রা স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমি বনাম অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট একাডেমির মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড় জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১৯৯৯ সালে সিএফএক্স একাডেমি দলের পক্ষে খেলেছেন। ২০০৪ সালে বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের খেলায় অংশগ্রহণের বিরতিতে যোগ দেয়ার পূর্ব-পর্যন্ত মনিকাল্যান্ডের সদস্য ছিলেন।
ষোড়শ জন্মদিনের কিছুদিন পরই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। একাডেমি দলে যুক্ত হবার পূর্বেই দুইবার আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। একাডেমি দলের সদস্যরূপে ম্যাশোনাল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৯ ও মিডল্যান্ডসের বিপক্ষে ৫২ রান তুলেন। প্রথম চার খেলায় ৪১ গড়ে রান পেয়েছিলেন। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল ও জিম্বাবুয়ে বোর্ড একাদশের পক্ষে খেলতেন।
২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে খেলেন। পাঁচ বল মোকাবেলা করে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এরফলে, ২০০৪ সালে বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের খেলায় অংশগ্রহণের বিরতি নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাননি।
২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের মুখোমুখি হন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ৭ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ঐ খেলাটি দুই দিনেই শেষ হয়ে যায় ও জিম্বাবুয়ে দল শোচনীয় পরাজয়ের কবলে পড়ে। ঐ টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ২৯৪ রানের ব্যবধানে পরাজয়বরণ করেছিল। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
কিছু সময় জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সুনজরে ছিলেন। ২০০৭ সালে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল ও জিম্বাবুয়ে প্রভিন্সেসের পক্ষে খেলেছেন। জাতীয় দলে ৩০-সদস্যের প্রাথমিক তালিকার বাইরে থাকেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ঠিকই উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত সাউদার্ন রক্সের সদস্য ছিলেন।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে সীমিত পর্যায়ের সফলতা পেয়েছেন। তাসত্ত্বেও মাঠে আন্তরিকতার সাথে খেলতেন ও খুব সহজে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসতেন না। সকল দলের বিপক্ষেই বড় ধরনের রান পেয়েছেন। কিন্তু, সেরা বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ দূর্বলতর ছিলেন।
