২৩ নভেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের চ্যাটসউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ে পারদর্শী। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম পর্যন্ত বুলডগসের পক্ষে ১৮৪ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, কয়েক মৌসুমে খেলা চলমান রাখেন। তন্মধ্যে, ফুটসক্রে দ্বিতীয় ও তৃতীয় একাদশের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফুটসক্রে’র পক্ষে ৩২.৪৭ গড়ে এগারো শতক সহযোগে ৬৯১৮ রানের সন্ধান পেয়েছেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে ৮৫০ রান তুলেন। সবগুলোই ক্লাব রেকর্ড হিসেবে টিকে রয়েছে। ১৯৬৩-৬৪, ১৯৬৬-৬৭ ও ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে তিনি ফুটসক্রে ক্লাব চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে রিচমন্ডের বিপক্ষে তিনজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে উভয় ইনিংসে শতক হাঁকিয়েছিলেন। এছাড়াও, ২০.৮১ গড়ে ১০৬ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব থাকেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভিক্টোরিয়ার পক্ষে ৪১টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ৪৩.১৩ গড়ে নয় শতক সহযোগে ২৭১৭ রান তুলেছেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২২১ রানের ইনিংস খেলেন।

১৯৭১ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুমে নিজ দেশে রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। অপ্রত্যাশিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খেলেন। ৩৫ বছর বয়সে এসে ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের সপ্তম টেস্টে অংশ নেন। টনি ডেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিয়মিত অধিনায়ক বিল লরি’র স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি। অভিষেককালীন ঐ গ্রীষ্মের শুরুতে তিনি ভিক্টোরিয়া দলের সদস্য ছিলেন না। প্রথম দিনের শেষভাগে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন। তিনি ৫ রান তুলে পিটার লিভারের বলে কট বিহাইন্ডে বিদেয় নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ ওভার বোলিং করে ১/২১ লাভ করেন। ২২৩ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে তাঁর দল ১৬০ রানে গুটিয়ে যায়। ৬১ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নেন। জন স্নো’র ইয়র্কার তাঁর প্যাডে আঘাত হানে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সাপ্তাহিক ছুটিতে ক্লাব ক্রিকেটে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। ৫৪ বছর বয়সেও ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ফুটসক্রের পক্ষে খেলেছিলেন। এ সময়েই তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পরও খেলার সাথে সম্পর্ক চলমান রাখেন। ভিক্টোরিয়ান টার্ফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে ২০ বছর ধরে ৭৯ বছর বয়সে আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনা করেছেন। এক টেস্টে অংশ নিলেও দুইটি ব্যাগি গ্রীন ক্যাপ লাভের অধিকারী তিনি।

সম্পৃক্ত পোস্ট