২১ জুলাই, ১৯৯০ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ মারকুটে ভঙ্গীমায় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৬ ফুট (১.৮২ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ক্রেগ রয় ও চনেল রয় দম্পতির সন্তান। ১০ বছর বয়সে পরিবারের সাথে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। সারের অনূর্ধ্ব-১১ দলের সদস্যরূপে খেলতে শুরু করেন। ধ্রুপদীশৈলীর খেলা উপহারের পাশাপাশি দ্রুততার সাথে রক্ষণাত্মক থেকে আক্রমণাত্মক ধাঁচের খেলোয়াড় হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটিয়েছেন। সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সালে ইসিবি এলিট প্লেয়ার ডেভেলপম্যান্টের সদস্যরূপে মনোনীত হন। একই বছর অ্যাডিলেডভিত্তিক ড্যারেন লেহমান একাডেমিতে ২০০৮-০৯ মৌসুমের শীতকালে ইস্টার স্কলারশীপ লাভ করেন।
২০১০ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, সিলেট সিক্সার্স, বেঙ্গল টাইগার্স, চিটাগং কিংস, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, গুজরাত লায়ন্স, দিল্লি ক্যাপিটালস, ইংল্যান্ড লায়ন্স, ওভাল ইনভিন্সিবলস, সিডনি থান্ডার, পার্থ স্কর্চার্স, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স, লাহোর কালান্দার্স, নেলসন মান্ডেলা বে জায়ান্টসের পক্ষে খেলেছেন। ১৯ বছর বয়সে ২৪ আগস্ট, ২০১০ তারিখে লিচেস্টারে সারে বনাম লিচেস্টারশায়ারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অভিষেক ঘটে।
ফ্রেন্ডস প্রভিডেন্ট টি২০ প্রতিযোগিতায় কয়েকটি দারুণ ইনিংস খেলে স্বীয় প্রতিভার কথা জানান দেন। তবে সহজাত প্রকৃতির আগ্রাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটিংয়ের কারণে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ধারনা ছিল যে, তিনি হয়তোবা টেস্টের উপযোগী নন। ২০১৪ সালের ন্যাটওয়েস্ট টি২০ ব্ল্যাস্ট প্রতিযোগিতায় ৪৮.৩৫ গড়ে ৬৭৭ রান সংগ্রহ করেন। এরফলে, ভারতের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নিতে তাঁকে ইংল্যান্ড দলে ঠাঁই দেয়া হয়।
২২ মার্চ, ২০২২ তারিখে অখেলোয়াড়ীসুলভ আচরণের দায়ে ক্রিকেট ডিসিপ্লিন কমিশন কর্তৃক £২৫০০ পাউন্ড-স্টার্লিং জরিমানাসহ সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন।
২০১৪ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ৮ মে, ২০১৫ তারিখে ডাবলিনের মালাহাইডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
২০১৯ সালে নিজ দেশে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুলাই, ২০১৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অলি স্টোনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম খেলাটিতে তিনি ৫ ও ৭২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জ্যাক লিচের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ১৪৩ রানে জয়লাভ করেছিল।
অভিষেকের পর থেকেই ইংল্যান্ড দলের অন্যতম প্রধান পরিচালনাশক্তিতে পরিণত হন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জনি বেয়ারস্টো’র সাথে দারুণ ও কার্যকর জুটি গড়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের প্রথম শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন।
একই বছর নিজ দেশে টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২২ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্টিভেন স্মিথের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৫ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। এলি মুর নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। মার্চ, ২০০৯ সালে এ দম্পতির প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।
