| |

সিরিল ওয়াল্টার্স

২৮ আগস্ট, ১৯০৫ তারিখে ওয়েলসের বেডলিনোগ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ইংল্যান্ড দলকে একটি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। সহজাত প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন ও ওরচেস্টারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ওয়েলস দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৯২৩ থেকে ১৯৩৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৭ বছর বয়সে ১৯২৩ সালে গ্ল্যামারগনের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। ঐ বছর দলীয় অধিনায়ক মরিস টার্নবুল চলে গেলে তাঁর ভাগ্য খুলে যায়। ১৯২৬ সালে গ্ল্যামারগনের পক্ষে ব্যক্তিগত সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন। ৫৮৩ রান তুলেন।

৭৫ খেলায় অংশ নেয়ার পর ১৯৩০ সালে ওরচেস্টারশায়ার কর্তৃপক্ষের নজর কাড়েন। ক্লাবের সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের ফলে তিনি শৌখিন মর্যাদা ধরে রাখেন। প্রথম মৌসুমেই ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে ১০২১ রান সংগ্রহ করেন। ১৯৩৩ সালে দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানে পরিণত হন। এ মৌসুমে নয় শতক সহযোগে ২১৬৫ রান পেয়েছিলেন। সর্বাগ্রে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। সর্বোচ্চ ২২৬ রানের ইনিংস খেলেন।

১৯৩৩ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১১ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৩৩ সালে নিজ দেশে জ্যাকি গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সবকটিতেই অংশ নেন। ২৪ জুন, ১৯৩৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক ঘটে। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৭ রানে জয়লাভ করে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২২ জুলাই, ১৯৩৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। এ সফরের তিন-টেস্টের সবকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। ১০২ রানের শতক হাঁকান। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র শতকে পরিণত হয়।

১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৫৯ ও ১০২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ২০২ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৩৪ সালে নিজ দেশে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। পাঁচ-টেস্টের সবকটিতে অংশ নেন। সিরিজের প্রথম টেস্টে নিয়মিত অধিনায়ক বব ওয়াট আঘাতের কারণে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলে তিনি ইংল্যান্ড দলকে একবার নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পান। এরফলে, টনি লুইসের সাথে দুই ওয়েলসীয় ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খেলা শেষ হবার ১০ মিনিট পূর্বে স্বাগতিক দল পরাজয়বরণ করে।

২২ জুন, ১৯৩৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৮২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। হ্যাডলি ভেরিটি’র স্মরণীয় বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে।

একই সফরের ১৮ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৪ ও ১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৫৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাভূত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টে ৫০-এর অধিক গড়ে রান পেয়েছেন ও কমপক্ষে ১০ টেস্টে খেলোয়াড়ী জীবন সমাপণকারী অপর ১০জন ইংরেজ খেলোয়াড়দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩০.৭৫ গড়ে রান পেলেও টেস্টগুলো থেকে ৫২.২৭ গড়ে রান পেয়েছিলেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর দুই-তৃতীয়াংশ ইনিংসে ৪০ রানের কোটা স্পর্শ করেছিলেন।

১৯৩৪ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। এ প্রসঙ্গে উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, ‘জ্যাক হবস কিংবা হার্বার্ট সাটক্লিফের যোগ্য উত্তরসূরী তিনি।’ ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি খেলায়ও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে ওয়েলসের নিদ এলাকায় ৮৭ বছর ১১৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট