২০ জানুয়ারি, ১৯১১ তারিখে টোবাগোর স্কারবোরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বোলার হিসেবেও সফল ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

আর্জডিকন মেরি’র পুত্র ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে অধ্যয়ন করেন ও কুইন্স রয়্যাল কলেজে ভর্তি হন। সেখানে ক্রিকেট ও ফুটবল দলের পক্ষে খেলতেন। পরবর্তীতে, অনেকগুলো বছর কুইন্স পার্ক সি.সি.র পক্ষে খেলেছেন। এক পর্যায়ে ক্লাবের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। শারীরিকভাবে বেশ শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবেও বেশ দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। প্রায়শঃই চমৎকারভাবে বলে আঘাত করেন। পরিবর্তিত বোলার হিসেবে ব্যবহৃত হতেন ও ফিল্ডিংয়ে বিশেষতঃ স্লিপ অঞ্চলে দক্ষ ছিলেন।

১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩২, ১৯৩৪, ১৯৩৬ ও ১৯৩৭ সালের আন্তঃঔপনিবেশিক খেলাগুলোয় ত্রিনিদাদের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, ১৯২৯-৩০ ও ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে নিজ উপনিবেশের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমের প্রথম খেলায় ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৪৯ রান তুলেছিলেন। ঐ খেলার শুরুতে ডিসিএইচ টাউনসেন্ডআরইএস ওয়াটকে উপর্যুপরী বলে বিদেয় করেছিলেন।

১৯৩৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৩৩ সালে জিসি গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। লর্ডস ও ওভাল টেস্টে অংশ নেন। ২৪ জুন, ১৯৩৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ম্যানি মার্টিনডেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে। খেলায় তিনি ৯ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জর্জ ম্যাকাউলি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৭ রানে জয়লাভ করে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১২ আগস্ট, ১৯৩৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী ছিলেন। ইনিংস ও ১৭ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এ সফরে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ২৮.৫৩ গড়ে ৮৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এজবাস্টনে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ১৪০ মিনিটে ১৪৬ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে জি. এ. হ্যাডলি’র সাথে পঞ্চম উইকেটে ২২৮ রানের জুটি দাঁড় করান।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসক হিসেবে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। কুইন্স পার্ক সি.সি. বোর্ডের সম্মানীয় সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে কিছুকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সম্মানসূচক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। বেশ কয়েকবার ত্রিনিদাদের প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ব্যবস্থাপক হিসেবে সফলতার সাথে দলকে পরিচালনা করেছিলেন। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের ভূমিকায় নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন। ১৯৫৬ সালের লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ১৯৫৯ সালে এ দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নিয়ে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপম্যান্ট কর্পোরেশনের সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। আমৃত্যু এ দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৬৩ সালে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টেস্ট সিরিজ পর্যবেক্ষণে ইংল্যান্ডে যান। এর এক মাস পর ব্রিটিশ সরকারের অতিথি হিসেবে আবারও ইংল্যান্ড গমন করেন।

১৯ এপ্রিল, ১৯৬৪ তারিখে ত্রিনিদাদের সেন্ট ক্লেয়ার এলাকায় নিজ গৃহে আকস্মিকভাবে হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫৩ বছর ৯০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট