৩ নভেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে নর্থল্যান্ডের হোয়াঙ্গারেই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে প্রায় দশ বছর উইকেট-রক্ষক ও নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এরপর, ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে এক লাফে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরূপে আবির্ভূত হন ও বিরাট প্রভাব ফেলেন।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এক পর্যায়ে নিজেকে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত করান। এরফলে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষমতা দেখান।

১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৩৫ টেস্ট ও ৭৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

তিন বছর পর ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে ব্রিসবেনে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শেন ওয়ার্নের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল ইনিংস ও ৯৬ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সফরকারীরা সিরিজ খোঁয়ায়। তবে তিনি খাঁটিমানের ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে খেলেন। প্রথম ইনিংসে ১৬৭ বল মোকাবেলায় ৩৮ রান সংগ্রহের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে ১২২ বল মোকাবেলায় ৫৩ রানের মনোরম অর্ধ-শতক হাঁকান। এর পূর্বে ২৬ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে হোবার্টে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মার্ক ওয়াহ’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২২২ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে মাত্র দুইটি শতরানের সন্ধান পেয়েছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিজ দেশে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে একান্ত নিষ্ঠার সাথে ধৈর্য্যশীল ১২০ রান তুলে ৩২৪/৫ রানের স্মরণীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিরাট ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৩৮ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৩ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। তবে, সফরকারীরা ৫ উইকেটে পরাজিত হলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। শেন থমসনের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৪ সালে কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ জুন, ১৯৯৪ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ৫৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রাহাম গুচের দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯০ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

পরবর্তী ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমের শীতকালে কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৫ নভেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সায়মন ডৌলের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৩৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে কোলাহরমূখর পরিবেশে ৩৩৩ মিনিট ক্রিজ আঁকড়ে অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে দর্শকদের ঘুম পাড়িয়ে দেন। তাঁর তুলনায় কেবলমাত্র ট্রেভর ‘বার্নাকল’ বেইলি ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে ৩৫৭ মিনিট ও ক্রিস ‘রড্রি’ টাভারে ১৯৮২ সালে ৩৫০ মিনিটে অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে টেস্টে এগিয়ে রয়েছেন। খেলায় তিনি ২ ও ৫১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্সের চমৎকার অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ভারত গমন করেন। ১৮ অক্টোবর, ১৯৯৫ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ৮ রান সংগ্রহ করেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এছাড়াও, ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলের একমাত্র ইনিংসে ২৬৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। উভয়ক্ষেত্রেই নিউজিল্যান্ড দল জয়লাভে সক্ষম হয়। ঐ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৭ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। খেলার প্রতিটি বলে মাঠে গড়ালেও তিনি মাঠে অবস্থান করেছিলেন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৬ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এরফলে, ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয়লাভের পর নিজ মাঠে প্রথম টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। ঐ টেস্টেও তিনি ১২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সীমিত-ওভারের ক্রিকেটেও যথেষ্ট সফল হয়েছিলেন।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১১ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৫ ও ৫৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। হার্শেল গিবসের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ১৮ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৮ ও ২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, স্টিভ এলোয়ার্দি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট