৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রিস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘ফ্রেডি’ ডাকনামে ভূষিত অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। রিবলটন হল হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আইসিসি বিশ্ব একাদশ, ব্রিসবেন হিট ও চেন্নাই সুপার কিংসের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। দৃশ্যতঃ গ্রেট ব্রিটেনে অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের কাছে তাঁর প্রজন্মের ‘ইয়ান বোথামরূপে’ চিত্রিত হয়েছিলেন। ইয়ান বোথাম যেমন প্রায় একাকী ১৯৮১ সালের অ্যাশেজ সিরিজ জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন; ঠিক তেমনি, ২৪ বছর পর তিনিও একই ভূমিকা রাখেন। তবে, উভয়েই মাঠ ও মাঠের বাইরে বিতর্কিত ভূমিকার সাথে নিজেদেরকে যুক্ত রেখেছিলেন।
১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সময়কালে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে সর্বমোট ৭৯ টেস্ট, ১৪১টি ওডিআই ও সাতটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। টেস্টের ঊনিশজন শীর্ষ অল-রাউন্ডারের অন্যতম হিসেবে ২০০ উইকেট ও ৩০০০ রানের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী। ১৯৯৮ সালে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৩ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৫২ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ রান সংগ্রহ করেন। অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারের অপূর্ব বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ৬ আগস্ট, ১৯৯৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩১ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্ক বুচারের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ২৩ রানে পরাভূত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৫ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৮ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যালান ডোনাল্ডের বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০০ সালে নিজ দেশে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৫ জুন, ২০০০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৬ ও ১২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কোর্টনি ওয়ালশের অনবদ্য বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯৩ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০০১-০২ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অনিল কুম্বলে’র স্মরণীয় অল-রাউন্ড সাফল্যে সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলতে যান। এ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে খেলেন। ১৩ মার্চ, ২০০২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪২ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথমবারের শতরানের সন্ধান পান। খেলায় তিনি ০ ও ১৩৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে নাথান অ্যাসলে’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৯ ও ২/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। গ্রাহাম থর্পের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯৮ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩০ মার্চ, ২০০২ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানে পৌঁছলে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৪৯ ও ৩/১০৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ড্যারিল টাফি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭৮ রানে পরাজিত হলে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়।
২০০২ সালে নিজ দেশে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ আগস্ট, ২০০২ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একমাত্র ইনিংসে ৩৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮৫ ও ১/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৩ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ৩১ জুলাই, ২০০৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১১ ও ১৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মাখায়া এনটিনি ও গ্রায়েম স্মিথের দূর্দান্ত সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯২ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮৮ ও ১/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মার্কাস ট্রেস্কোথিকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়। এ সিরিজে ৪২৩ রান সংগ্রহসহ ১০ উইকেট দখল করে গ্রায়েম স্মিথের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৩-০৪ মৌসুমে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১০ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০২* ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অপরাজিত চতুর্শতকের কল্যাণে খ্যাতি পাওয়া ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০০৪ সালে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২০ মে, ২০০৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৩ ও ১/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অভিষেকধারী অ্যান্ড্রু স্ট্রসের অনবদ্য ব্যাটিং সাফল্যে সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই বছর নিজ দেশে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ১৯ আগস্ট, ২০০৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩২ ও ১/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, স্টিভ হার্মিসনের অনবদ্য অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। এ সিরিজে ৩৮৭ রান সংগ্রহসহ ১৪ উইকেট দখল করেন। শিবনারায়ণ চন্দরপলের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৪-০৫ মৌসুমে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৭৯ ও ২/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জ্যাক ক্যালিসের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ১৯৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সক্ষমতা দেখায়।
২০০৫ সালে নিজ দেশে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জুন, ২০০৫ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১৪ ও ৩/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। ম্যাথু হগার্ডের দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই বছর নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ জুলাই, ২০০৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫০ ও ২/১২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অপূর্ব বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৩৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৫ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ১০২ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫৪ ও ২/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৫-০৬ মৌসুমে ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ভারত সফরে যান। ১ মার্চ, ২০০৬ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৮ ও ২/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ম্যাথু হগার্ডের দূর্দান্ত বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০০৮ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ জুলাই, ২০০৮ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৭ ও ৩৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যাশওয়েল প্রিন্সের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ১০ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৩০ জুলাই, ২০০৮ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৬* ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৮৯ ও ২/৭২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৯ সালে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। লর্ডস টেস্টে ৫/৯২ লাভ করে ক্রিকেটের স্বর্গভূমিতে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন ও লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে চিত্রিত করেন।
৩০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৭৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৮ ও ০/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
একই সফরের ২০ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টে অংশগ্রহণের পূর্বে অ্যাশেজ সিরিজ শেষে দীর্ঘ সংস্করণের খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ সমসংখ্যক রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৫ ও ০/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্টুয়ার্ট ব্রডের অসাধারণ অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে ঐ খেলায় স্বাগতিক দল ১১৫ রানে জয় তুলে নেয়। এ জয়টি ১৯৩৪ সালে লর্ডসে জয়লাভের পর ইংল্যান্ডের প্রথম অ্যাশেজ টেস্ট জয় ছিল। এরফলে, সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
নিজের সেরা সময়ে বৈশ্বিক মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যানদের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ফেলেছেন। শতাব্দীর সেরা বলের তালিকায় নয় নম্বর অবস্থানে রিকি পন্টিংয়ের বিপক্ষে করেছিলেন। পনেরো নম্বর অবস্থানে জ্যাক ক্যালিসের বিপক্ষে করেছেন। বেশ কয়েকট গ্রন্থ রচনা করেছেন। তন্মধ্যে, ‘বিইং ফ্রেডি’, ‘ফ্রেডি’, ‘অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ’, ‘মাই লাইফ ইন পিকচার্স’ ও ‘অ্যাশেজ টু অ্যাশেজ’ অন্যতম।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। র্যাচেল নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির হোলি, কোরে ও রকি নাম্নী তিন সন্তান রয়েছে। সারেতে স্ব-পরিবারে বসবাস করছেন। ২০০৯ সালের শুরুরদিকে লিভারপুলভিত্তিক অল্ডার হে চিলড্রেন্স হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি বিভাগের অর্থ সহায়তাকল্পে স্ব-পত্নীকে নিয়ে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ফাউন্ডেশন গঠন করেন।
