| |

অ্যালান ওয়াটকিন্স

২১ এপ্রিল, ১৯২২ তারিখে মন্মাউথশায়ারের আস্ক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৬৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। গ্ল্যামারগনের প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার ছিলেন। ১৯৪৮ সালে প্রথমবারের মতো কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ২৪ বছর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে হাঁপানী সমস্যা থাকা সত্ত্বেও গ্ল্যামারগনের পক্ষে ৩০.৫৭ গড়ে বিশ সহস্রাধিক রান ও ২৪.৪৮ গড়ে ৮৩৩ উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন।

১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৪০.৫০ গড়ে রান ও ৫০.৩৬ গড়ে ১১ উইকেট দখল করেছিলেন। গ্ল্যামারগনের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিয়েছেন। আগস্ট, ১৯৪৮ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত টেস্টে তাঁর অভিষেক ঘটলেও বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ডন ব্র্যাডম্যানের সর্বশেষ ছিল। ১৪ আগস্ট, ১৯৪৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। জন ডিউজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সিলি মিড-অফ অঞ্চলে দণ্ডায়মান ছিলেন। স্পিনার এরিক হোলিসের দ্বিতীয় বলটি সোজা তাঁর কাছে যায়। পরের বলে দ্য ডনের শূন্য রানে বিদেয়ের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, খুব কাছাকাছি এলাকায় থাকলেও তিনি তাঁর চোখে কোন অশ্রু দেখেননি। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে বিল জনস্টনের বলে নিজেও শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। আঘাতের কারণে বোলিং উদ্বোধনে নেমে ৪ ওভারের অধিক বল করতে পারেননি। ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২ রান তুলেছিলেন। ইনিংস ও ১৪৯ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৪৮-৪৯ মৌসুমের শীতকালে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জর্জ মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২৭ ও ৬৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

এরপর, ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ১১১ রানের মনোজ্ঞ শতক হাঁকান। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৯ ও ২/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৪৯ সালে নিজ দেশে ওয়াল্টার হ্যাডলি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ১৯৪৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ ও ৪৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৫১-৫২ মৌসুমের নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয়সারির এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে ৬৪.২৮ গড়ে ৪৫০ রান তুলেন। দিল্লি টেস্টে শতক হাঁকানোর পর কানপুর, বোম্বে ও কলকাতা টেস্টে অর্ধ-শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। ১২ জানুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৫২ সালে নিজ দেশে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৫ জুন, ১৯৫২ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/২১ ও ০/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৮ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৭ জুলাই, ১৯৫২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ২০৭ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এ স্তরের ক্রিকেট বল হাতে নিয়ে সফলতার সন্ধান পাননি। ১৯৫২ সালে নিজ দেশে ভারতের বিপক্ষে তেমন সুবিধে করতে না পারায় ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও দল থেকে বাদ পড়েন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। প্লাইমাউথ আর্জিল ও কার্ডিফ সিটির পক্ষে ফুটবল খেলেছেন। ক্রমাগত ধূমপানে অভ্যস্ত ছিলেন। ৩ আগস্ট, ২০১১ তারিখ বুধবার বিকেলে ওরচেস্টারশায়ারের কিডারমিনস্টার এলাকার হাসপাতালে ৮৯ বছর ১০৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট