২১ মে, ১৮৬৩ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গলার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৮৯৯-১৯০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। শুরু থেকেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সোচ্চার হন।

১৮৮৭ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রেড বার্টন, জন কটাম, রেজিনাল্ড অ্যালেনওয়াল্টার গিফেনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৭১ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৮৮ সালে পার্সি ম্যাকডোনেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ৩০ আগস্ট, ১৮৮৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২২ ও ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ২১ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৮৯০ সালে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ জুলাই, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপহার দিয়েছিলেন। খেলায় তিনি ৫৫ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৩০ ও ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১১ আগস্ট, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ২১ রান সংগ্রহ করে ফ্রেড মার্টিনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, জ্যাক বারেট সহজ রান-আউট করতে ব্যর্থ হলে সফরকারীরা ২ উইকেটের নাটকীয়ভাবে পরাজিত হয় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৮৯১-৯২ মৌসুমের শীতকালে নিজ দেশে ডব্লিউ. জি. গ্রেসের নেতৃত্বাধীন লর্ড শেফিল্ড দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ১৮৯২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৪ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৪১ রান তুলেন। উভয় ইনিংসে জর্জ লোহমানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৪ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৩ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৩০ রানে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৮৮৮, ১৮৯০ ও ১৮৯৩ সালে মোট তিনবার দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। শেষের সফরে নিজের ব্যক্তিগত সেরা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। সবগুলো খেলায় ১৬০৫ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪৯ রান সংগ্রহ করেন ও ২৮ ঊর্ধ্ব গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন।

আবারও তিনি প্রতিনিধিত্বমূলক খেলাগুলোয় ব্যাটিংয়ে শীর্ষে ছিলেন। ২৩ ইনিংস থেকে ৩৩ গড়ে ৭৬১ রান তুলেছিলেন। মে, ১৮৯৩ সালে সম্ভবতঃ সর্বাপেক্ষা দূর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। অস্ট্রেলীয়রা ১৮১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়বারের মতো শক্তিধর এমসিসি দলের বিপক্ষে খেলতে নামে। লায়ন্স ও অ্যালেক ব্যানারম্যান হিট উইকেটে বিদেয় নেন। তিনি ১৪৯ রানের কম তুলেননি। ভীতিদায়ক পেস উপেক্ষা করে এক ঘণ্টায় ১০০ রান সংগ্রহ করেন। ১২৪ রানের ইনিংসে বাইশটি চার, তিনটি তিন, বিশটি দুই ও বারোটি এক রান ছিল। লর্ডসে তৎকালীন সেরা দ্রুততম পায়ের কারুকাজসমৃদ্ধ ব্যাটিং হিসেবে এ ইনিংসটি বিবেচিত হয়েছিল।

১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে ড্রিওয়ে স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ ও ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

বোলিংয়ের পাশাপাশি মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবেও সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। তবে, জর্জ বোনরের ন্যায় খ্যাতি পাননি কিংবা পার্সি ম্যাকডোনেলের ন্যায় উইকেটের সর্বত্র খেলার অধিকারী ছিলেন না। বল বাঁক খাওয়াতে পারলে তিনি খুব সহজেই উইকেটের সন্ধান পেতেন। শক্ত ও প্রকৃত উইকেটে তিনি ব্যাট হাতে সর্বাপেক্ষা বিপজ্জ্বনক ব্যাটিংয়ে অগ্রসর হতেন। সেরা বোলারদেরকেও মনোবল নষ্ট করে দিতেন।

২১ জুলাই, ১৯২৭ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ম্যাগিল এলাকায় ৬৪ বছর ৬১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট