১৯ মার্চ, ১৯৭৭ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
অনবদ্য, কৌশলগতভাবে সঠিকমানের ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। বেশ সোজাভাবে খেলতেন। অত্যন্ত দ্রুতলয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটেছিল। নিজ দেশে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে অ্যাবোটাবাদ, ইসলামাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, করাচী, খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, পাকিস্তান কাস্টমস ও পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এরপর, টেস্ট অভিষেক পর্বেই শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন।
ঘরোয়া দ্বিতীয় বিভাগের প্রতিযোগিতায় হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের পক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। এরপর, ১৯৯৭ সালে পাকিস্তান ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ জুলাই, ১৯৯৭ তারিখে ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে পাকিস্তান ‘এ’ দলের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ঐ সফরে বেশ সফলতা পান। দেশে ফিরে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে পিসিবি বোর্ড একাদশের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ঐ খেলায় শতক ও ৫০ রানের ইনিংস খেলেন।
১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ অক্টোবর, ১৯৯৭ তারিখে ২০ বছর বয়সে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আজহার মাহমুদ ও মোহাম্মদ রমজানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। নিজস্ব প্রথম টেস্টে অংশ নিয়ে ১১৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। পাশাপাশি, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অপর অভিষেকধারী আজহার মাহমুদের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
কিন্তু, শুরুরদিকে এ প্রতিশ্রুতিশীলতা পরিবর্তীতে আর ধরে রাখতে পারেননি। পরবর্তী সাত ইনিংসে মাত্র ১০৮ রান তুলতে পেরেছিলেন। নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্টে অংশ নেন। এরপর, দল থেকে বাদ পড়েন ও ঘরোয়া আসরে খেলতে থাকেন।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে রশীদ লতিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২১ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১৩ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ ওয়াসিমের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
