| |

ইয়ন মর্গ্যান

১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ইংল্যান্ড দলের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, ইংল্যান্ডের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

‘মগি’ ডাকনামে ভূষিত ইয়ন মর্গ্যান ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। শুরুতে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলেন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন। আয়ারল্যান্ডের সদস্যরূপে ২০০৪ ও ২০০৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। দুই প্রতিযোগিতা থেকে ১৩ খেলায় দুই শতক সহযোগে ৫০.৫০ গড়ে ৬০৬ রানের সন্ধান পেয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, কেরালা কিংস, বাংলা টাইগার্স, কলকাতা নাইট রাইডার্স, লন্ডন স্পিরিট, সিডনি থান্ডার, তশান স্পার্টানস, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস, ইংল্যান্ড পারফরম্যান্স প্রোগ্রাম, করাচী কিংস, পেশাওয়ার জালমি দলের পক্ষে খেলেছেন। ২০০৪ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান রেখেছেন। মিডলসেক্সের পক্ষে দারুণ খেলা প্রদর্শনের সুবাদে আয়ারল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।

২০০৬ সাল থেকে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন। ২০০৬ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের সদস্যরূপে ওডিআইয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ৫ আগস্ট, ২০০৬ তারিখে আয়ারে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম খেলেন।

কিন্তু, ২০০৯ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ইংল্যান্ড দলের সদস্য হন। ২০০৯ সালে ব্রিস্টলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে প্রথম খেলেন। ৫ জুন, ২০০৯ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজ খেলার ব্যাপক সুযোগ আসে। তন্মধ্যে, ছয়টি খেলায় অংশ নেন। ৪৩ ও ৫৮ রান তুলে দলে শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন। রিভার্স সুইপের অপূর্ব প্রয়োগ দেখান। ২০১০ সালে উভয় স্তরের ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআই থেকে শতক হাঁকান। ইনিংস সমাপণের দারুণ ভূমিকা রাখার ফলে তাঁকে অস্ট্রেলীয় মাইকেল বেভানের সাথে তুলনা করা হতো। বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের দারুণ সফলতার কারণে সফররত বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

২০১০ সালে নিজ দেশে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৭ মে, ২০১০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্টিভেন ফিনের বোলিং দাপটে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ৪ জুন, ২০১০ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৭ রান সংগ্রসহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইয়ান বেলের দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮০ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১১-১২ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১০ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। আজহার আলী’র দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে ইংল্যান্ড দল ৭১ রানে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টের তুলনায় সীমিত-ওভারের ক্রিকেটের দিকেই তাঁকে অধিক মনোনিবেশ ঘটাতে দেখা যায়। সাদা-বলের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট