|

মাহবুবুল আলম

১ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে ফরিদপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘রবিন’ ডাকনামে পরিচিত। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিস ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন। ৪ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগ বনাম খুলনা বিভাগের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০৩-০৪ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে একাডেমি দলের পক্ষে ডানহাতি মিডিয়াম-পেসার হিসেবে প্রথম খেলেন। একাডেমি দলের পক্ষে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে সকলের নজর কাড়েন। ২০০৭-০৮ মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লীগে ঢাকা বিভাগের পক্ষে বেশ ভালোমানের খেলা উপহার দেন। ২০.৬৯ গড়ে ৩৯ উইকেট দখল করেছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আগস্ট ও সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা গমন করে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকায় নাম লেখান। অক্টোবর, ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওডিআই দলের সদস্য হন।

২০০৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও পাঁচটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে জেমি হাউকে বিদেয় করে প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। ১/৩৭ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ রান খরচ করলেও কোন উইকেট পাননি। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।

তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটের দূরন্ত ছন্দ উচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে ধরে রাখতে পারেননি। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোয় তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখেনি। ফলশ্রুতিতে দল থেকে বাদ পড়েন। এছাড়াও, সীমিত-ওভারের খেলায় মাত্রাতিরিক্ত রান খরচ করেছিলেন।

২০০৮-০৯ মৌসুমে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১* ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৮৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অ্যাশওয়েল প্রিন্সের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে ইনিংস ও ৪৮ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

একই মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০/৫৬ ও ১/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সাকিব আল হাসানের প্রাণান্তঃকর প্রয়াস সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ১০৭ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০১২-১৩ মৌসুমের বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে দূর্নীতির সাথে জড়িত কিংবা দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তে উৎসাহিত করার ঘটনা কর্তৃপক্ষকে না জানানোর কারণে আইসিসি’র দূর্নীতি বিরোধী ও নিরাপত্তা ইউনিট মোশাররফ হোসেন এবং মাহবুবুল আলমসহ অপর নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে বিপিএল ট্রাইবুনালে নির্দোষরূপে প্রমাণিত হন। দুইমাস পর ২৭ এপ্রিল, ২০১৪ তারিখে বিসিবি প্রাথমিকভাবে মোশাররফ হোসেনসহ তাঁর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে তিনি খেলার জন্যে অনুমতিপ্রাপ্ত হন। এরফলে, ক্রিকেটের সকল স্তরে তাঁর খেলার পথ সুগম হয়।

বাংলাদেশের সাবেক বোলিং কোচ চম্পকা রামানায়েকে’র অভিমত, তিনি অনেকাংশেই ছন্দময় বোলিংয়ের দিকেই নজর রাখতেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট