৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার পোর্ট মোর্যান্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বার্বাডীয় এথেলবার্ট ফিটজারবার্ট বুচার ও মাথিল্ডা এলিজাবেথ লাভ দম্পতির সন্তান ছিলেন। সেন্ট যোসেফ অ্যাংলিকান ও কোরেন্টাইন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এ সময়ে তাঁর মাঝে ক্রিকেটের প্রতি আসক্তি লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যালয় ত্যাগের পর বেশ কিছু কাজের সাথে নিজেকে জড়ান। বিদ্যালয় শিক্ষক, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেরাণী, বীমাকর্মী ও কল্যাণ কর্মকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে পোর্ট মোর্যান্ট স্পোর্টস ক্লাবে যোগ দেন।
১৯৫৪ সালের জোন্স কাপ ইন্টার-কাউন্টি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আসরে রবার্ট ক্রিস্টিয়ানি’র নেতৃত্বাধীন বার্বাইসের সদস্যরূপে রোহন কানহাই, ইভান মাদ্রে ও জো সলোমনের সাথে একত্রে খেলেন। ব্যাট হাতে দারুণ খেলেন। এরপর, ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে কেনসিংটন ওভালে বার্বাডোসের বিপক্ষে প্রথম খেলায় অংশ নিয়ে শূন্য ও ৯ রান তুলেন। এক মাস পর একই মাঠে ও একই স্থানে ৩৪ ও ৬২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। একই মৌসুমে বোর্দায় ব্রিটিশ গায়ানার সদস্যরূপে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ৮ ও ৪৬ রান তুলেছিলেন। তবে, পরের মৌসুমে বাদ পড়েন।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কব্জির মোচরে যথোচিত শক্তি প্রয়োগে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। অসম্ভব ধৈর্য্যশীলতার পরিচয় দিতেন। প্রয়োজনে ফাঁকা জায়গায় বল ফেলতেন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। গায়ানার কুশলী ব্যাটসম্যান ও রক্ষাকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৭০-৭১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানা ও গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। লোয়ারহাউজ ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ১৯৬২ সময়কালে খেলেছিলেন।
১৯৫৮ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৪৪ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে জেরি আলেকজান্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে মাদ্রাজের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ওয়েস হলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮ ও ৬৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, একই মৌসুমে জেরি আলেকজান্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ৬ মার্চ, ১৯৫৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১১ ও ৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ফজল মাহমুদের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। সফরকারীরা ৪১ রান পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে সফরকারীরা পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ২৬ মার্চ, ১৯৫৯ তারিখ থেকে শুরু হওয়া লাহোর অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ রান তুলে রান-আউটে বিদেয় নেন। তবে, রোহন কানহাইয়ের ২১৭ রানের কল্যাণে দল ইনিংস ও ১৫৬ রানের ব্যবধানে জয় পেলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
অভিষেক সিরিজে সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। কিছু সময় ছন্দহীনতায় থাকলেও টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে পুরোপুরি সফল ছিলেন। দলে স্থানলাভের প্রশ্নে গ্যারি সোবার্স, রোহন কানহাই, ক্লাইভ লয়েড, সেম্যুর নার্স, কনরাড হান্টের ন্যায় তাঁরকা খেলোয়াড়দের সাথে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়। প্রাপ্ত সাতটি শতকের ছয়টিই বিদেশের মাটিতে করেন। শক্তি প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরি করে ফুরফুরে মেজাজে স্ট্রোক খেলতেন।
বল হাতে নিয়ে খণ্ডকালীন বোলিং করতেন। লেগ-স্পিন বোলিংয়ে পাঁচ টেস্ট উইকেট পান। সবগুলো একই টেস্টের এক ইনিংস থেকে পেয়েছেন। তবে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং প্রাচুর্য্যতায় তাঁর বোলিংয়ের প্রয়োজন পড়েনি।
১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৬ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩ মার্চ, ১৯৬৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৯ ও ৭১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১৭৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩০ জুন, ১৯৬৬ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ২০৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১৩৯ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৫ মে, ১৯৬৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৪ মে, ১৯৬৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করলেও তাঁর দল ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৬৬ সালে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ জুন, ১৯৬৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪৪ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৪০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৬ জুন, ১৯৬৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৯ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পূর্বের টেস্ট জয়ের সুবাদে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৪ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৫ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৮ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২ ও ৬০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৪ রানে জয় পেলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ২৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ইরাপল্লী প্রসন্নের বলে বিদেয় নেন। তবে, একটি ক্যাচ তালবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে নিজ দেশে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ১৮ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৫২ ও ১১৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
একই মৌসুমে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৭৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৬৯ সালে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১০ জুলাই, ১৯৬৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩৫ ও ৯১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যালান নটের শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিস্টোফার মার্টিন-জেনকিন্স তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনকে ‘উত্থান-পতনে ভরপুর’ হিসেবে পরিচিতি ঘটালেও অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোয় ৪৩.১১ গড়ে ৩১০৪ রান তুলেছিলেন। নিজ দেশে ৩৫.০৯ ও বিদেশের মাটিতে ৪৬.৪১ গড়ে রান সংগ্রহ করেছেন। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪০-ঊর্ধ্ব গড়ে রান তুলেছেন। পরিসংখ্যানগতভাবে তেমন দর্শনীয় না হলেও সব মিলিয়ে ১৬৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ৩১ শতক সহযোগে ৪৯.৯০ গড়ে ১১৬২৮ রান তুলেছিলেন।
১৯৭০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে ৮৬ বছর ১০৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
