|

রেজি সোয়ার্জ

৪ মে, ১৮৭৫ তারিখে ইংল্যান্ডের লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সারের ব্যাগশটের জনৈক ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান রেজি সোয়ার্জ লন্ডনের সেন্ট পলস স্কুলে অধ্যয়ন করেন। এরপর, ১৮৯৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রাইস্টস কলেজে পড়াশুনো করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় অক্সফোর্ডের বিপক্ষে খেলে একই বছর রাগবিতে ব্লুধারী হন। তবে, ক্রিকেটে ব্লু লাভ করতে পারেননি। শুরুর দিনগুলোয় রাগবিতে নজর দেন। রিচমন্ডের পক্ষে খেলার পর ১৮৯৬-৯৭ মৌসুমে বার্বারিয়ান্সের প্রতিনিধিত্ব করার আমন্ত্রণ পান। দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসিত হবার পূর্বে ইংল্যান্ডের পক্ষে হাফ-ব্যাক অবস্থানে তিনবার রাগবি টেস্টে অংশ নেন।

এডওয়ার্ড যুগের দক্ষিণ আফ্রিকার গুগলি বোলার চতুষ্টয়ের অন্যতম ছিলেন। অন্যতম হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশ্ব মানচিত্রে পরিচিতি ঘটাতে বিরাট ভূমিকা রাখেন। ১৯০১ থেকে ১৯১৪ পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সাধারণমানের ক্রিকেটার হিসেবে কয়েকটি খেলায় মিডলসেক্সের পক্ষে খেলেন। ১৯০২ সালে ১৮ ইনিংস থেকে ৮.১২ গড়ে রান তুলেছিলেন ও ৩০ ওভার বোলিং করে একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। ১ সেপ্টেম্বর শেষ ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এর ছয়দিন পর কিংফন্স ক্যাসলে চড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসিত হন। পরবর্তী মাচে ‘দ্য স্পোর্টসম্যানে’ কেপ ক্রিকেট নিয়ে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ‘দূর্ভাগ্যবশতঃ শেষ খেলাগুলোয় তিনি ছন্দহীনতার কবলে পড়েছিলেন। বোধহয় পরিবর্তিত আবহাওয়ার প্রভাব তাঁর খেলার উপর পড়েছে।’ ১৯০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাথে ফিরে আসেন ও বিজেটি বোসানকুয়েতের কাছ থেকে গুগলি বোলিং শিখেন।

১৯০৬ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ২০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বার্ট ভগলার, অব্রে ফকনার, গর্ডন হোয়াইট, পার্সি শারওয়েল ও টিপ স্নুকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩/৭২ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়ে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩০ মার্চ, ১৯০৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৪ ও ৩/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৬ রানে জয়ী হলে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯০৭ সালে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯ আগস্ট, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/৪৫ ও ৩/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রেডরিক ফেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ মার্চ, ১৯১০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৩ রান অতিক্রম করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ ও ৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে পরাজিত হলেও স্বাগতিকরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯১০-১১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্য ছিলেন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকবার সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৬১ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বিল হুইটি’র শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/১০২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এ পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে এ কটারকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৩০। পাশাপাশি, টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১১৪ রানে পরাজিত হলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৭ জানুয়ারি, ১৯১১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ১১* রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৮ ও ৪/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩৮ রানে জয় পেলেও সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বিল হুইটি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, ১/৩৪ ও ১/১৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৫৩০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ৩ মার্চ, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ভিএস র‌্যান্সফোর্ডকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/১০২। এ পর্যায়ে এ কটারকে বিদেয় করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৬/৪৭ ও ১/৪২ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ ও ৬* রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯১২ সালে মুখ থুবড়ে পড়া ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ফ্রাঙ্ক মিচেলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। ১৫ জুলাই, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করে তাঁর দল। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯০৮ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি খেলায়ও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। তিন বছর লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ছিলেন। ২৭ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে যান। ১৮ নভেম্বর, ১৯১৮ তারিখে ফ্রান্সের ইটাপলস এলাকায় মাত্র ৪৩ বছর ১৯৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বিশ্বযুদ্ধে তিনি বীরত্ব প্রদর্শন করেন। দুইবার আহত হন। তবে, স্প্যানিশ ফ্লুয়ে আক্রান্ত হন। মৃত্যুকালীন তিনি মেজর পদবী ধারণ করেছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট