|

কাইল মায়ার্স

৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ তারিখে বার্বাডোসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস ও সেন্ট লুসিয়া জুকসের পক্ষে খেলেছেন। ৬ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে প্রভিডেন্সে অনুষ্ঠিত গায়ানা বনাম উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

বার্বাডোসের পক্ষে দারুণ খেলার সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৯-২০ মৌসুমে পেশাদারী পর্যায়ে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। রিজিওনাল সুপার৫০ প্রতিযোগিতায় লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের বিপক্ষে ১১৩ রান তুলেন। জার্মেইন ব্ল্যাকউডের পর চারদিনের প্রতিযোগিতায় রান সংগ্রহে দ্বিতীয় স্থানে থেকে বার্বাডোসের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

সিমারদের বিপক্ষে স্বীয় শক্তিমত্তা প্রদর্শনে অগ্রসর হয়ে থাকেন। তবে, স্পিনের বিপক্ষেও কিছুটা ভূমিকা রাখেন। ২০২০ সালের সিপিএলে বার্বাডোস ট্রাইডেন্টের পক্ষে খেলেন।

২০২০ সাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। ২০২০ সালে দলের সংরক্ষিত খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ড গমন করেন। ঐ বছরের শেষদিকে ২৯ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন। তবে, প্রথম দুই খেলায় তেমন সফলতা পাননি।

দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়ের নাম প্রত্যাহারের ফলে ২০২০-২১ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে বাংলাদেশ গমনের সুযোগ পান। ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। নক্রুমা বোনার ও শেন মোজলে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। চতুর্থ ইনিংসে ২১০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ও ৩৯৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দলের অবিশ্বাস্য বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ সমসংখ্যক রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৬ ও ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। একই সফরের ২০ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে ঢাকায় ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

এরপর থেকে পরবর্তী এক বছর ১২ ইনিংস থেকে একটিও অর্ধ-শতক হাঁকাতে পারেননি। মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট থেকে বাদ পড়েন। সেন্ট জর্জেস টেস্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলে প্রত্যাবর্তন করেন। খেলায় তিনি মিতব্যয়ী বোলিং করেন। ৩১ রান খরচায় ৭ উইকেট দখল করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরজ বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ইনিংস থেকে ছয় উইকেট লাভ করেন। নর্থ সাউন্ডের সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সফরকারী বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্ট শতক হাঁকান। তন্মধ্যে, পঞ্চম উইকেটে জার্মেইন ব্ল্যাকউডের (৪০) সাথে ১১৬ রানের জুটি গড়েন।

২০২১-২২ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৯ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৬* ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৬৪ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ মার্চ, ২০২২ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিং নেমে ২৮ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে যুক্ত থাকেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ২/১৩ ও ৫/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জশুয়া ডা সিলভা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২২ সালে নিজ দেশে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২৪ জুন, ২০২২ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৬ রান তুলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩৫ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। এছাড়াও, এ সিরিজে ১৫৩ রান সংগ্রহসহ ৬ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২২-২৩ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩০ নভেম্বর, ২০২২ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মারনাস লাবুশেনের জোড়া শতকে সফরকারীরা ১৬৪ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৮ ও ০ রান সংগ্রহকরেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৩ পান। এইডেন মার্করামের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮৭ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৮ মার্চ, ২০২৩ তারিখে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৯ ও ৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৩২ ও ৩/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা’র অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৮৪ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট