২ আগস্ট, ১৯৭০ তারিখে বার্বাডোসের হেইন্সভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৯০ সালে কিংস্টনে জ্যামাইকার বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে জ্যামাইকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি, এক পর্যায়ে ১৯ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে তাঁকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখা হয়।
১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট ও ৩৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ২০ নভেম্বর, ১৯৯১ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক পর্বটি তেমন ভালো হয়নি। সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ৫ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলার এক পর্যায়ে নিয়মিত উইকেট-রক্ষক ডেভিড উইলিয়ামস নিম্ন রক্তচাপে আক্রান্ত হলে মাঠ ত্যাগ করেন ও তিনি উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হন। তবে, ইনজামাম-উল-হকের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৯ রানের ব্যবধানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
টেস্টে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ক্লেটন ল্যাম্বার্টের সাথে দারুণ জুটি গড়েছিলেন। এ দু’জন উদ্বোধনী জুটিতে ৭২.৪০ গড়ে রান তুলেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৯৮ সালে নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮২, ৭২ ও ১৬৭ রানের জুটি গড়েন। তবে এর পরপরই খেলায় ছন্দপতন ঘটতে থাকে।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১২ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ ও ৬১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। মার্ক রামপ্রকাশের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২০ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৯২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দ্বীননাথ রামনারায়ণের সুন্দর বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫২ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। স্মর্তব্য যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ – দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার এটিই প্রথম টেস্ট ছিল। ২৬ নভেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬ ও ১৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে শন পোলকের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। শন পোলকের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৪ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২১ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। জন্টি রোডসের ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৫ জানুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ৪ রান করে সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। উভয় ইনিংসেই তিনি অ্যালান ডোনাল্ডের শিকারে পরিণত হন। ৩৫১ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ সফরে আট ইনিংসের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্র ২১ রান তুলেন। এরপর আর তাঁকে টেস্ট খেলতে দেখা যায়নি।
১৯৯৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আইসিসি নক-আউট ট্রফির উদ্বোধনী আসরের সেমি-ফাইনালে ২৪৩ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হওয়াকালীন জবাগল শ্রীনাথের প্রথম বলে লং-অফ বরাবর ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। কোয়ার্টার-ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৯, সেমি-ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৩৯ ও চূড়ান্ত খেলায় ১০৩ রান তুলেন। তবে, চূড়ান্ত খেলায় শতক হাঁকালেও তাঁর দল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ উইকেটে পরাজিত হয়। ঐ প্রতিযোগিতায় তিনি ২২১ রান তুলে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। সংগৃহীত রানের ৩১.৫৩% রান পুরো ওডিআই খেলোয়াড়ী জীবন থেকে পেয়েছেন। ২৩ এপ্রিল, ২০০০ তারিখে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন।
প্রায়শঃই হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় দ্রুতলয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুভসূচনা এনে দিতেন। সীমিত-ওভারের খেলায় একটি শতরানের সন্ধান পেয়েছেন। উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপের চূড়ান্ত খেলায় তিন অঙ্কের রান সংগ্রহ করলেও দল পরাজয়ের কবলে পড়ে। তবে, টেস্ট ক্রিকেটে তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ঘূর্ণায়মান বল মোকাবেলায় হিমশিম খেতেন।
লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রী লাভ করেন। এক পর্যায়ে প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত টাস্ক ফোর্সের সদস্যরূপে রামনরেশ সারওয়ান, মাইলস ব্যাসকম্ব, এনোক লুইস ও ড. কিশোর শ্যালো’র সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
