২১ মার্চ, ১৯৩৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্রয়ডন পার্ক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
মার্কিন-ভারতীয় বংশোদ্ভূত তিনি। চমৎকারভাবে স্ট্রোকপ্লে মারতেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজ্য পর্যায়ের ক্রিকেটে দারুণ খেলতেন। ৪৬.৪১ গড়ে ৩৯৯২ রান তুলেছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২২৯ রান তুলেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে মেলবোর্নে ভিক্টোরিয়া বিপক্ষে এ সাফল্য পান। ঐ গ্রীষ্মে নিজস্ব স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেছিলেন। ৫৮.৮৮ গড়ে ১১৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯৬৫ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৩ মার্চ, ১৯৬৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। লরি মেইন ও পিটার ফিলপটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৩ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৭৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৪ মে, ১৯৬৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১০ উইকেটে জয় পেলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
শক্তিধর অস্ট্রেলীয় দলে নিজেকে কখনো প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড, ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ ও ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেছিলেন। তবে, কেবলমাত্র ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ ও ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন। সব মিলিয়ে তিনটিমাত্র অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ‘বব কাউপারের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৬৬-৬৭ মৌসুমের গ্রীষ্মে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩০ বছর পূর্তির পূর্বেই ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
