৫ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে হবিগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সিলেট রয়্যালসের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৪ তারিখে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বনাম ভারতের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। মাশরাফি বিন মর্তুজা’র ন্যায় নিজের প্রথম টেস্ট ও প্রথম ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটেছিল।
২০০৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রথমসারির ক্রিকেটারে পরিণত হন। ঐ সময়ে অনেক পেস বোলারের চেয়েও দ্রুততর বোলিং করতে পারতেন। এছাড়াও, মাশরাফি বিন মর্তুজাসহ অনেকের ন্যায় আঘাতের কারণে নিয়মিতভাবে খেলতে পারেননি। দল নির্বাচকমণ্ডলী কেবলমাত্র প্রয়োজনে তাঁকে দলে রাখতেন। কিন্তু, শুধুমাত্র নিজের আঘাতের কারণে আট মৌসুমে স্বল্পসংখ্যক খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন।
সর্বদাই একদিনের খেলায় শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন। কিন্তু, দীর্ঘ সময়ের খেলায় উইকেট লাভ না করার ব্যর্থতাও তাঁর ছিল। দল নির্বাচনের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের পূর্বে আঘাতের কবলে পড়ার মতো দুর্ভাগ্যের শিকারে পরিণত হয়েছেন।
২০০৪ থেকে ২০১২ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট, ৩৮টি ওডিআই ও চারটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০৪ তারিখে বার্মিংহামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। একদিনের আন্তর্জাতিকেই নিজস্ব সেরা মুহূর্তগুলো উদযাপন করেছেন। তিনবার অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনার মধ্যে দুইটিতে বাংলাদেশ দল পায় ও একটিতে নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ ছিল।
২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারতের মুখোমুখি হন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/১১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ৮৩ রানে জয়লাভসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে সফরকারী দল।
জানুয়ারি, ২০০৯ সালে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় উপুল থারাঙ্গা, মাহেলা জয়াবর্ধনে ও থিলান থুশারাকে বিদেয় করলে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬ রানে ৫ উইকেট হারায়। বাংলাদেশ দল ঐ খেলায় পরাজিত হলেও পরের বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রথম ওডিআইয়ের শেষ ওভারে জয় এনে দেন ও ৪-০ ব্যবধানের সিরিজ বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ শেষ ওভারে দারুণ বোলিংকালে ফিরতি ক্যাচ তালুবন্দী করার চেষ্টাকালে আঙ্গুলে মারাত্মক চোট পান।
২০১২ সালের এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা ও তিলকরত্নে দিলশানের উইকেট লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে প্রতিপক্ষীয় দল বড় ধরনের সংগ্রহ করতে না পারায় অবশেষে বাংলাদেশ জয়ী হয় ও প্রথমবারের মতো চূড়ান্ত খেলায় অবতীর্ণ হয়।
২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ঐ টেস্টটি ঠিক সাত বছর পূর্বেকার অভিষেক টেস্টের পর মাত্র দ্বিতীয় ছিল। জনৈক সাংবাদিকের পরবর্তী তৃতীয় টেস্ট খেলার জন্যে আরও সাত বছর অপেক্ষা করার প্রশ্নের জবাবে স্মিতহাস্যে মন্তব্য করেন যে, ‘তখন তো খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটবে’। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৬১ ও ১/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সাকিব আল হাসানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
বাংলাদেশ দলের সদস্যদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ছিলেন। বয়সের কারণে সচরাচর ‘ভাই’ নামে আখ্যায়িত হতেন। নম্রতার কারণেও বেশ পরিচিত ছিলেন। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের কারণে দলের অন্যতম সৌভাগ্যবান হিসেবে বিবেচিত হতেন।
