২ আগস্ট, ১৯৫৮ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গুলাম আহমেদ, শিবলাল যাদব ও বেঙ্কটপতি রাজু’র পর হায়দ্রাবাদের অন্যতম অফ-স্পিনার হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলেন। মাত্র দুই বছরের অধিক সময় নিয়ে টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই ক্রিকেটারদেরকে উত্থান-পতনে ফেলে অভিজ্ঞতার স্বাদ আস্বাদন করেন। বাঁক খাওয়ানোর চেয়ে বলকে নিখুঁত নিশানায় ফেলার দিকেই অধিক দৃষ্টি দিতেন ও কার্যকর নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি ঘটাতে সক্ষম হন।
১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯০ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্ট ও ৩২টি ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৫ নভেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে সঞ্জয় মাঞ্জরেকরের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব হয়। অভিষেক টেস্টটি দূর্দান্তভাবে সম্পন্ন করেন। দলকে প্রায় জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন। খেলায় তিনি পাঁচ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট পেলেও সফরকারী দল ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায়। উত্থান-পতন ও চরম নাটকীয়তায় ভরা ঐ টেস্টে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ভিভ রিচার্ডসের দারুণ শতকে ফলাফল চলে আসে। ভারত দল প্রথম ইনিংসে মাত্র ৭৫ রানে গুটিয়ে যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থেকে এক উইকেট পান। দ্বিতীয় ইনিংসে নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। ২৭৬ রানে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল জয় পায়। গর্ডন গ্রীনিজ, ডেসমন্ড হেইন্স, উইনস্টন ডেভিস ও গাস লোগি তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।
তিনি ঐ সিরিজে আর তেমন সাফল্য পাননি। তাসত্ত্বেও, একাগ্রচিত্তে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের স্বাক্ষর রাখেন। ব্যাট হাতে নিয়েও সফল ছিলেন। কোর্টনি ওয়ালশ, প্যাট্রিক প্যাটারসন ও উইনস্টন বেঞ্জামিনের পেস আক্রমণ সামাল দিয়ে ইডেন গার্ডেন্সে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন। তৃতীয় টেস্টে নয় নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে এ সাফল্য পান। একই সফরের ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
পূর্বেকার মৌসুমে স্বীয় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটে একটিমাত্র অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছেন ও মূলতঃ শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে অফ-স্পিন বোলিংয়ের কারণে পরিচিতি লাভ করেন। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কার্যকর অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। নিজ নামের পার্শ্বে দুইটি শতরানের ইনিংস লিখিয়েছেন। তন্মধ্যে, একটি ছিল দ্বি-শতরান। ১৯৮৭ সালের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় অপরাজিত ২০৬ ও ১৭৪ রানের উপর্যুপরী ইনিংস খেলেন। বিহারের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে এ সাফল্য পান। আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বি-শতক হাঁকিয়ে প্রথম ইনিংসে হায়দ্রাবাদকে এগিয়ে নিয়ে যান। এরপর, দিল্লির বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় দলের সংগ্রহ ১১০/৫ থাকা অবস্থায় ১৭৪ রান করে দলকে শিরোপা জয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। কিন্তু, বোলার হিসেবে বলকে তেমন বাঁক খাওয়াতে না পারলেও চাতুর্যতা ও নিখুঁততায় নিজেকে এগিয়ে রাখতেন।
পরের মৌসুমে অধিনায়ক দিলীপ বেঙ্গসরকারের তুরুপের তাসে পরিণত হন ও সিরিজ বিজয়ে প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন। ১৯৮৮ সালে টেস্টে নিজস্ব সেরা ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২১ উইকেট পান। ভারতের ২-১ ব্যবধানে সিরিজ বিজয়ে বিরাট ভূমিকা পালন করেন। ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রান খরচায় ৮ উইকেট নিয়ে দলের বিজয় নিশ্চিত করেন। বোম্বে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৫০ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সেরা বোলিংয়ে পরিণত হয়। ঐ খেলায় স্বাগতিক দল ১৩৬ রানে পরাভূত হয়। সিরিজের নিষ্পত্তি টেস্টে ৯১ রানে ৭ উইকেট দখল করলে ভারত দল ১০ উইকেটে বিজয়ী হয়।
কয়েক মাস পর ১৯৮৯ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গমন করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে দুইবার পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। তবে, ১৪ উইকেট দখল করলেও ভারত দল ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাভূত হয়। গায়ানায় সিরিজের প্রথম টেস্টে পাঁচ-উইকেট পান। তন্মধ্যে, ১৯৪ রান সংগ্রহকারী রিচি রিচার্ডসন তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত পরের টেস্টে আবারও পাঁচ-উইকেট পান। এ পর্যায়ে ভিভ রিচার্ডসের উইকেট লাভ করেছিলেন।
নেতৃত্বের রদবদল ঘটলে কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্তকে অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত করা হলে একই সালে ভারত দল পাকিস্তান গমন করে। তবে, তিনি তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি ও পুরোপুরি ব্যর্থ ছিলেন। চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের দুই টেস্টে অংশ নিয়ে উপর্যুপরী তিন ইনিংসের কোনটিতেই উইকেট লাভে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তিন শতাধিক রান খরচ করে ফেলেন। এরপর আর তাঁকে টেস্ট খেলতে দেখা যায়নি।
১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে নিজ দেশে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১২ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ৪/৭২। খেলায় তিনি ৪/৫১ ও ৪/৫৩ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। একমাত্র ইনিংসে ১৮২ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, সঞ্জয় মাঞ্জরেকরের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় টেস্টটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে তিনবার পাঁচ-উইকেট পেয়েছেন। তন্মধ্যে, দুইবারই তৎকালীন ক্রিকেট বিশ্বে রাজত্ব কায়েম করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পেয়েছিলেন। টেস্ট দল থেকে বাদ পড়লেও আরও এক বছর ওডিআই খেলেছিলেন। সীমিত-ওভারের খেলায় বেশ সফল ছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৮৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের তৃতীয় আসরের চূড়ান্ত খেলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯-০-২৪-০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান এবং নবজ্যোৎ সিং সিঁধু’র শতকের উপর ভর করে দলের শিরোপা বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। এরপূর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় সাফল্য পান। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নিম্নমূখী রানের খেলায় ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ৯২/১ থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষকে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন ও ভারত দল ৪ উইকেটে জয়লাভ করে। ঐ খেলায় তিনি ৯-০-২১-৫ বোলিং বিশ্লেষণ করেন। ওডিআইয়ে এটিই তৎকালীন যে-কোন ভারতীয় বোলারের সেরা সাফল্য ছিল।
মাত্র তিন বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদচারণের সুযোগ পান। টেস্টে ৪১ ও ওডিআই থেকে ৩১ উইকেট দখল করেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলতে থাকেন। এ পর্যায়ে দূর্দান্ত অল-রাউন্ডার ও বুদ্ধিমত্তা সহযোগে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩০১৪ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ৩৬১ উইকেট দখল করেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই ২৮ গড়ে সাফল্য পান ও স্বীয় উপযোগীতার দারুণ বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
১৯৮৪ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর ১৯৯৮ সালে হায়দ্রাবাদে অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬, ১৯ ও ২২ বয়সভিত্তিক আরশাদ আইয়ুব ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। এক পর্যায়ে ভারত দলের ব্যবস্থাপক হিসেবে মনোনীত হন। তন্মধ্যে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে ক্রিকেট প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০১০ সালে হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রথমবারের সভাপতির সময়কাল নিয়ে এক স্বাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন যে, ‘‘এইচসিএ’র গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করি, সভাপতি পদের জন্যে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রবর্তন ঘটাই। এছাড়াও আমি প্রত্যেক সদস্যকে দুই মেয়াদের জন্যে রাখার ব্যবস্থা করি। নতুবা, সাত থেকে আটবার সদস্যরা মনোনীত হতেন। আমরা উপ্পলে স্টেডিয়াম নির্মাণ সম্পন্ন করি, অভ্যন্তরীণ সুবিধাসহ একাডেমি শুরু করি। আমি দুইবার আইপিএল পরিচালনা করি, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০ ও টেস্ট খেলার ব্যবস্থা করি।’’ ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ তারিখে জি বিনোদকে পরাজিত করে পুণরায় সভাপতি হন।
সৌদি আরবের জেদ্দা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে প্রতিশ্রুত ভবন হস্তান্তরে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
