|

মেহরাব হোসেন

৮ জুলাই, ১৯৮৭ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বামহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও স্লো লেফট-আর্ম বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

আরও একজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার মেহরাব হোসেন থাকায় তিনি নিজ নামের পার্শ্বে জুনিয়র শব্দটি যুক্ত করেন। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল, ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা মেট্রোপলিশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ ‘এ’, অনূর্ধ্ব-১৯ দল, চিটাগং কিংসের পক্ষে খেলেছেন। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে অপূর্ব দক্ষতার কারণে প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন।

অনেক ক্রিকেটারের ন্যায় তিনিও প্রথমে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ৪৯ গড়ে ১৯৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৮.৩৮ গড়ে ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন। এরপর, বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সদস্য হিসেবে নিজেকে পাকাপোক্ত করে তুলেন। বাংলাদেশ একাডেমি দলের নেতৃত্বে থেকে পাকিস্তান গমন করেন। জুন ও জুলাই, ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে নিয়ে বিদেশ সফরে যান। মুতারেতে সিরিজের দ্বিতীয় চারদিনের খেলায় ১২৮ ও বুলাওয়েতে ৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন।

২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট, ১৮টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতে অনুষ্ঠিত ২০০৬ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ১৩ অক্টোবর, ২০০৬ তারিখে জয়পুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকে ওডিআইয়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। পরবর্তীতে, ব্যাটিং অবস্থানের পরিবর্তন ঘটিয়ে নিচেরদিকে নিয়ে যান।

২০০৭ সালে মোহাম্মদ আশরাফুলের অধিনায়কত্বে দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৩ জুলাই, ২০০৭ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ইনিংস ও ৯০ রানের ব্যবধানে তাঁর দল পরাজয়বরণ করে। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তাঁর দল। উভয় ইনিংসেই এক অঙ্কের রান সংগ্রহ করেছিলেন।

তবে, পরবর্তীতে নিজের উত্তরণ ঘটাতে সচেষ্ট হন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৮৩ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। মুশফিকুর রহিমের সাথে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৪৪ রান যুক্ত করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৮-০৯ মৌসুমে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অ্যাশওয়েল প্রিন্সের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে ইনিংস ও ৪৮ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

পরবর্তী কয়েকটি খেলায় ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরেন। টেস্ট পর্যায়ে অভিজ্ঞতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। দলে মাঝারিসারিতে স্থান লাভের জন্যে চেষ্টা চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে ২০০৯ সালের শুরুতে দল থেকে বাদ পড়েন।

২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ১৮ ও ৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৭৪ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। তিলকরত্নে দিলশানের অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪৬৫ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

৯ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত মধ্যাঞ্চল বনাম পূর্বাঞ্চলের খেলায় মার্শাল আইয়ুবকে সাথে নিয়ে দুই শতাধিক রানের নিরবিচ্ছিন্ন নতুন রেকর্ড গড়েন।

সম্পৃক্ত পোস্ট