১৪ জুন, ১৯৭২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ওরচেস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০১৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বোল্যান্ড ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেপ কোবরাজ, লায়ন্স ও ওরচেস্টারশায়ার ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে খেলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার জন্যে দীর্ঘ দিন অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল। প্যাট সিমকক্স, পল অ্যাডামসনিকি বোয়ে’র অনুপস্থিতিতে তিনি এ সুযোগ পান।

২০০১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ২০০১-০২ মৌসুমে শন পোলকের নেতৃত্বে স্প্রিংবকের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২৯ বছর বয়সে ৭ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অংশ নেন। আন্দ্রে নেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২/৫৫ ও ২/১২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কোন ইনিংসেই ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। তবে, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের বীরোচিত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। একই সফরের ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে বুলাওয়েতে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

২০০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে খালেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ১৮ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে ইস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/২৩ ও ১/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। গ্রায়েম স্মিথের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০৭ রানে জয় পেলে সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৫ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে পচেফস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। জ্যাক ক্যালিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৬০ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ২২টি ও ওডিআই থেকে সাত উইকেট পেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও কাউন্টি ক্রিকেটে বেশ সরব ছিলেন। ২০০৪ সালে কোলপ্যাক খেলোয়াড় হিসেবে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর থেকে সাজঘর সরব রাখতে থাকেন। পরবর্তী বছরগুলোয় নিজের প্রতিভা বিকাশে সোচ্চার ছিলেন। টি২০ ক্রিকেটেও সমান ধারা অব্যাহত রাখেন। ২০০৪ ও ২০০৬ সালে লিচেস্টারশায়ারের দুইবার শিরোপা বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, ভারতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে কেপ কোবরাজকে সেমি-ফাইনালে নিয়ে যান।

২০১০ সালে পেশাদারী ক্রিকেটে অংশগ্রহণের ২০তম বছর উদযাপন করেন। ঐ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে গ্রেস রোডে থেকে ২১.০৫ গড়ে ৫৬ উইকেট পান। এরফলে, প্লেয়ার্স বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি টি২০ ক্রিকেটে ক্লাবের সর্বকালের শীর্ষ উইকেট-সংগ্রাহকে পরিণত হন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। ২০০৬ সালে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে ছয়টি ছক্কার মারে মাত্র ১৬ বলে ৪২ রান তুলে প্রসিদ্ধ বিজয়ে অংশ নেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ৪ জুলাই, ২০১৩ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের স্পিন-বোলিং পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট