|

বিল ফারিমন্ড

২৩ মে, ১৯০৩ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ডেইজি হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২০-এর দশক থেকে ১৯৩০-এর দশক পর্যন্ত ইংরেজ ক্রিকেট অঙ্গনে দ্বিতীয় সেরা উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুনাম ছিল। ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি বেশ নিষ্প্রভ ছিলেন। কিন্তু, কার্যকর ব্যাটিং করতেন ও সচরাচর লেগ-সাইডে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলে বেশ রান তুললেও কাউন্টির পক্ষে কোনরূপ শতরানের সন্ধান পাননি। ১৯৩৪ সালে মাইনর কাউন্টিজের সদস্যরূপে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ১৭৪ রানের ইনিংস খেলেন। এটিই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল। এছাড়াও, খেলোয়াড়ী জীবনে ১৬টি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছেন।

১৯২৪ থেকে ১৯৪৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ইংল্যান্ডের উইকেট-রক্ষক হিসেবে দূর্লভ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। কাউন্টি দলে নিয়মিতভাবে খেলতে তাঁকে দীর্ঘ চৌদ্দ বছর অভিজ্ঞতার প্রহর গুণতে হয়। এ সময়ে অন্য কাউন্টি দলে খেলার প্রস্তাবনা পেলেও তিনি তা নাকচ করে দেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের দলীয় সঙ্গী ও ইংল্যান্ডের মূল উইকেট-রক্ষক জর্জ ডাকওয়ার্থের কারণে প্রায়শঃই প্রথম একাদশে অংশগ্রহণ করা থেকে তাঁকে নিরাশ হতে হয়েছিল। এছাড়াও, অনেকগুলো বছর অধিকতর সেরা ব্যাটসম্যান কেন্টের লেস অ্যামিসের ইংল্যান্ড দলে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হলে উভয়কেই অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল। ১৯৩৭ সালে জর্জ ডাকওয়ার্থের আগেভাগেই অবসর গ্রহণের কারণে খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে অবশেষে দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পান। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে আবারও তাঁর স্বাভাবিক খেলায় বিঘ্ন ঘটায়।

১৯৩০ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে কেন্টের বিপক্ষে এক ইনিংসে সাতটি ডিসমিসাল ঘটান। এরফলে, টাইগার স্মিথের পর তৎকালীন বিশ্বরেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান।

১৯৩১ থেকে ১৯৩৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র চার টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩০-৩১ মৌসুমে জর্জ ডাকওয়ার্থের সহকারী হিসেবে দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ডাকওয়ার্থ আঘাতের কবলে পড়লে দুই টেস্ট খেলেন। এ সফরে ৩০.৭০ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। হ্যারি লি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২৮ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে ডারবানের কিংসমিডে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩৫ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ ও দুইটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

চার বছর পর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক টেস্ট খেলেন। ঐ টেস্টে নিয়মিত উইকেট-রক্ষক লেস অ্যামিস ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৩৫ সালে নিজ দেশে একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এবারও লেস অ্যামিস ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন।

১৯৩৫ সালে নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৯ জুন, ১৯৩৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ১৩ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ১৫৭ রানে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৩৯ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫৬ সালে বন্ধুত্বমূলক ‘গোলাপের খেলা’য় অংশ নেন। তবে, ৪২ বছর বয়সে এসে পুণরায় নিয়মিতভাবে খেলা শুরু হলে আর খেলতে নামেননি। ১৫ নভেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওয়েস্টহটন এলাকায় অবস্থিত নিজ গৃহে ৭৬ বছর ১৭৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট