১৯ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে বার্বাডোসের হোল্ডার্স হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার, রেফারি ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৯৩ সালে ব্রিজটাউনে গায়ানার বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে।
১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্ট ও নয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ২৫ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে অ্যাডিলেড ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মাইকেল বেভানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮৩ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩ এপ্রিল, ১৯৯৯ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ ও ৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জাস্টিন ল্যাঙ্গারের অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৭৬ রানে জয় পেলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে হ্যামিল্টন টেস্টে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। ১১৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এ পর্যায়ে শারউইন ক্যাম্পবেলের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ২৬৭ রান তুলেছিলেন। তাসত্ত্বেও, ঐ খেলায় তাঁর দল পরাজয়ের কবলে পড়ে। এরপর, পরবর্তী দশ টেস্ট থেকে মাত্র ২২ গড়ে রান তুলেছিলেন।
একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৭ ও ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে চতুর্থ উইকেটে দলীয় অধিনায়ক বিসি লারা’র সাথে ১৬৬ মিনিটে ২৬৮ রানের জুটি দাঁড় করান। ম্যাথু সিনক্লেয়ারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০৫ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ এগিয়ে যায়।
২০০০ সালে নিজ দেশে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৮ মে, ২০০০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই বছর জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৩১ আগস্ট, ২০০০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, মাইক অ্যাথার্টনের চমৎকার ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৫৮ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ওডিআইয়েও সুবিধে করতে পারেননি। ৫৫.৯৩ স্ট্রাইক রেটে রান সংগ্রহ করেছিলেন। এক পর্যায়ে পর্দার অন্তরালে চলে যান।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এক পর্যায়ে আইসিসি’র ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ১০টি ওডিআই ও একটি টি২০আই খেলা পরিচালনা করেন। অক্টোবর, ২০০৯ সালে আঞ্চলিক পর্যায়ে আইসিসি’র ম্যাচ রেফারি হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু করেন। ৯ জুন, ২০১২ তারিখে আইসিসি’র অপারেশন্স ডিপার্টমেন্টে যোগ দেন।
