২০ জানুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে গুজরাতে আনন্দ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১২ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে গুজরাত ও পশ্চিমাঞ্চল এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ক্যাপিটালস, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে পক্ষে খেলেছেন। গুজরাত থেকে আসা অনেক বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনারের অন্যতম। দলে অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। বামহাতে মারমুখী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার তিনি। ১৮ বছর বয়সে ২০১২ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মুম্বইয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে অভিষেক ঘটে। নভেম্বর, ২০১২ সালে রঞ্জী ট্রফিতে প্রথম খেলেন ও ঐ মৌসুমে একটিমাত্র খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো স্বীয় প্রতিভা বিকাশে সোচ্চার হন। ২৯ উইকেট লাভের পাশাপাশি ব্যাপক রান তুলেন। ৭ খেলা থেকে ৪৬.১২ গড়ে ৩৬৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
২০১৩ সালের এসিসি এমার্জিং টিমস কাপে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের শিরোপা বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাত উইকেট দখল করেন তিনি। তন্মধ্যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে চার-উইকেট পান। এর স্বীকৃতিস্বরূপ বিসিসিআই কর্তৃক বর্ষসেরা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটার পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৩ সালে ইন্ডিয়ান টি২০ লীগের ষষ্ঠ আসরকে ঘিরে মুম্বই দলের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে, উপযুক্তভাবে তাঁকে ব্যবহার করা হয়নি। ২০১৪ সালে মোহালিতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেন। স্ব-ঘোষিত ব্যাটিং অল-রাউন্ডার। উপরের দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুটা সমস্যায় পড়েন। তাসত্ত্বেও, নিখুঁতমানের বোলিং করে উইকেট পেয়েছেন। ১৭ উইকেট দখল করার পাশাপাশি নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে গুরুত্বপূর্ণ রান তুলেছেন। সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অধিনায়ক জর্জ বেইলি’র নির্দেশনায় প্রচণ্ড চাপ সামলে বল হাতে নিয়ে দলে ভূমিকা রাখা। সুন্দর বোলিং করে প্রতিযোগিতার উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন। এরফলে ভারত দলে খেলার পথ সুগম হয়।
২০১৬ সালে আইপিএলের নবম আসরে কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের সদস্যরূপে গুজরাত লায়ন্সের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন। দিনেশ কার্তিক, ডোয়েন ব্রাভো ও রবীন্দ্র জাদেজাকে উপর্যুপরী বিদেয় করে এ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ২০১৯ সালের আইপিএল নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস দ্বিতীয় সর্বাধিক দামী খেলোয়াড় হিসেবে ₹৫ কোটি রূপীর বিনিময়ে তাঁকে দলে ভেড়ায়। আইপিএলের ২০২০ সালের আসরেও তিনি ঐ দলে থাকেন। তাঁর অন্তর্ভূক্তির ফলে দলের বোলিং বিভাগে ভারসাম্য ফিরে আসে। ২০১৯-২০ মৌসুমের দিলীপ ট্রফিকে ঘিরে আগস্ট, ২০১৯ সালে ইন্ডিয়া রেড দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। অক্টোবর, ২০১৯ সালে দেওধর ট্রফিতে ইন্ডিয়া ‘সি’ দলের সদস্য হন।
২০১২ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০ বছর বয়সে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ গমনার্থে ওডিআই দলের সদস্য হন। ১৫ জুন, ২০১৪ তারিখে মিরপুরে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে উৎসাহব্যঞ্জক খেলা উপহার দেন। ফলশ্রুতিতে, বামহাতি রবীন্দ্র জাদেজাকে পাশ কাটিয়ে দলের সদস্য হন ও নিজ দেশে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেন। ৫-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজে ১১ উইকেট পান ও ১৭৮ স্ট্রাইক রেটে ৩১ রান তুলেন। সম্ভাবনাময় খেলা উপহারের স্বীকৃতিস্বরূপ দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে ভারত দলে ঠাঁই দেন। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাঁকে দলের সদস্যরূপে রাখা হয়।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সিম উপযোগী পিচে ভারতের বোলিং আক্রমণ পেস বোলারদের ঘিরে গড়ে তোলায় তাঁকে বসে থাকতে হয় ও বিশ্ব ক্রিকেটের বড় আসরে কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। দেশে ফিরে আসেন ও জুনে বাংলাদেশ গমন করেন। এরপর থেকে সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে দলের শীর্ষ বামহাতি স্পিনার হিসেবে নিয়মিতভাবে খেলছেন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন উইকেট লাভের ফলে ২০ জুন, ২০১৬ তারিখে আইসিসি ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে ১৩শ’ স্থান দখল করেন ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের চেয়ে মাত্র তিন স্থান দূরে ছিলেন। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হন। দল নির্বাচকমণ্ডলী অভিজ্ঞ রবীন্দ্র জাদেজাকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে। প্রতিযোগিতার পর রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজাকে দলের বাইরে রাখলে দলে ফেরার পথ সুগম হয়। কিন্তু, কুলদীপ যাদব ও যজুবেন্দ্র চাহালের আবির্ভাবে তাঁকে নিরাশ হতে হয়।
২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪০ ও ৫/৬০ বোলিং বিশ্লেষণসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর সুবাদে স্বাগতিকরা ৩১৭ রানের ব্যবধানে টেস্টে জয় পায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।
২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৫২ ও ৪২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৪ ও ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মৈয়াঙ্ক আগরওয়ালের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩৭২ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২৭ ও ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৪ ও ১/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জসপ্রীত বুমরা’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৬ রানের ব্যবধানে টেস্টে জয় পায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/২১ ও ১/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সায়মন হারমারের অপূর্ব বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩০ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
