১৮ জানুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে রংপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। বলকে উভয়দিক দিয়েই সুইং করাতে পারতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে নামতেন। বাংলাদেশ দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ক্রমাগত সফলতার সন্ধান পেয়েছিলেন। ২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে বরিশাল বিভাগ, উত্তরাঞ্চল ও রংপুর বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ২৭ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বরিশাল বিভাগের সদস্যরূপে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে।
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশুনো শেষ করা অনেক শিক্ষার্থীর অন্যতম ও বেশ সফলতা লাভ করেছেন। তবে, এক দিক দিয়ে ভিন্নতর অবস্থানে ছিলেন। লিখিত পরীক্ষা শেষে পুণরায় ফিরে আসতে হয়েছিল। বামহাতি পেস বোলার হিসেবে সহজাত প্রকৃতিতে কৌণিকভাবে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বল মারতেন। এছাড়াও, বামহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষেও বলকে বাঁক খাওয়ানোয় দক্ষ ছিলেন। বাংলাদেশের পরিবেশে উভয় ক্ষেত্রেই বিষয়টি বেশ কঠিন হলেও প্রায়শঃই শুরুরদিকের উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েও একই কার্যকারীতা প্রদর্শন করেছিলেন। বলে পেস না থাকলেও বলের ঘূর্ণায়মানতাকে উপজীব্য করে উইকেটগুলো পেতেন।
বিকেএসপিতে অধ্যয়নকালীন ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে কয়েক মৌসুম খেলেছেন। তবে, তেমন সফল হননি। জাতীয় ক্রিকেট লীগে বরিশাল বিভাগে বেশ নিয়মিতভাবে খেলতেন। ২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর বিভাগীয় দলের সদস্য ছিলেন। এরপর, ঐ সময়ে প্রথম-শ্রেণীর মর্যাদাবিহীন রংপুর দলে খেলেছেন। রাজশাহী বিভাগের পক্ষে অংশ নিয়ে সফল হননি। পরবর্তীতে, পুণরায় বরিশালের পক্ষে খেলার জন্যে ফিরে আসেন।
দুই মৌসুম তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ২০০৭-০৮ মৌসুমে খুবই ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। ঐ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আট খেলা থেকে ১৯.৬৩ গড়ে ৩৬ উইকেট দখল করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি গোচরীভূত হন ও নিউজিল্যান্ড সফরের জন্যে মনোনীত হন। দুই টেস্ট খেলার পর উপেক্ষিত হন। পরবর্তী তিন মৌসুমে তেমন সফল হননি।
২০০৮ থেকে ২০১৩ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের খুব স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম দুই টেস্ট খেলার পর পাঁচ বছর দলের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৪ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। জুনায়েদ সিদ্দিকী ও তামিম ইকবালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তিনি সৈয়দ রাসেলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। ঐ পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন, বলকে সুইং করতে পেরেছেন এবং এমনকি স্টিফেন ফ্লেমিংকে বিদেয় করেছিলেন। ঐ খেলায় দুই উইকেট দখল করেন। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু, নিজ দেশে সম্পূর্ণরূপে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।
২০১২-১৩ মৌসুমে রংপুর বিভাগের পক্ষে খেলে ২৪ উইকেট দখল করেন। তাসত্ত্বেও, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের কোন দলে খেলার জন্যে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হননি। অবশেষে সিলেট রয়্যালসের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনের কল্যাণে ২০১৩ সালের প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দলে যুক্ত হন। চূড়ান্ত খেলাটি ক্রিস গেইলের মারমুখী শতরানের কল্যাণে স্মরণীয় হয়ে থাকলেও তিনি ৩/২৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন।
বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণে পেসারদের আঘাতের কারণে পুণরায় জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন। ঘরোয়া আসরে নতুন বল নিয়ে নিয়মিতভাবে স্বীয় দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ২০-এর কম গড়ে ৭ খেলা থেকে ২৩ উইকেট দখল করেন। এরফলে, বিদেশের মাটিতে খেলার জন্যে তাঁকে দলে নেয়া হয়।
২০১৩ সালে সফলতার সাথে টেস্ট দলে ফিরে আসেন। ঐ বছর মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ২৫ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ৫৭ রান খরচ করেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। সফরকারীরা দলনায়কের জোড়া অর্ধ-শতকে ১৪৩ রানে জয় পেয়ে দুই টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে ড্র করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
কয়েক সপ্তাহ পর ১১ মে, ২০১৩ তারিখে বুলাওয়েতে টি২০আইয়ে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। এরপর থেকে আর তাঁকে বাংলাদেশ দলে খেলতে দেখা যায়নি। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতভাবে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন।
