২২ জুলাই, ১৯৯৭ তারিখে ছোট্ট কাউন্টি ডেভনের এক্সটার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের দিকেই অধিকতর জোর দেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।
অফ-স্পিন বোলিংয়ে দক্ষতার কারণে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে অ্যাডিলেডভিত্তিক ড্যারেন লেহম্যান ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান। এরপর থেকে তাঁর অগ্রযাত্রা শুরু হয়। টানটনে তাঁর বিশাল সফলতার কারণে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা তাঁকে ‘সিদারাবাদ’ নামে আখ্যায়িত করেন।
২০১৮ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেট ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডেভন, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও সাউথের পক্ষে খেলেছেন। ১৬ বছর বয়সে সমারসেট ক্রিকেট একাডেমিতে যোগ দেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরের ক্রিকেটেও অংশ নিয়েছেন।
তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবে ২০১৬ সালে সমারসেট কাউন্টি ক্লাবের পক্ষে পেশাদারী পর্যায়ে খেলতে শুরু করেন। ৩ জুলাই, ২০১৬ তারিখে টানটনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানী একাদশের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তবে, প্রথম-শ্রেণীর খেলায় তাঁর যাত্রাটা সুখকর হয়নি। ১২৮ রান খরচ করলেও কোন উইকেট লাভে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। কিন্তু, ঐ বছরের শেষদিকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের নিজের প্রথম খেলায় আরও একবার প্রতিভা বিচ্ছুরণের সুযোগ পান। ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ঐ খেলায় ৬/২১ নিয়ে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনেন। চ্যাম্পিয়নশীপের অভিষেক খেলায় ইয়ান বেল ও জোনাথন ট্রটকে উপর্যুপরী বলে বিদেয় করতে সমর্থ হন। সব মিলিয়ে ঐ খেলায় ৫৯ রান খরচায় ৮ উইকেট দখল করেন। এরপর, পরের খেলায় নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ৫/৪৩ নিয়ে নিজের প্রতিভা ও দক্ষতা বিকাশে সোচ্চার হন। ২০১৭ সালের কাউন্টি মৌসুমে ২৩.৪২ গড়ে ৩৬ উইকেট পান ও ইংল্যান্ড দলে অংশগ্রহণের বিষয়টি সময়ের ব্যাপারে নিয়ে আসেন।
২০১৮ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্টে অংশ নিচ্ছেন। ঐ বছর নিজ দেশে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৪ মে, ২০১৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এটিই তাঁর বড় ধরনের মুহূর্ত ছিল। এ খেলার পূর্বে কাউন্টির দলীয় সঙ্গী জ্যাক লিচের বৃদ্ধাঙ্গুলী ভেঙ্গে গেলে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে খেলার আমন্ত্রণ জানায়। দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি এড স্মিথের কাছ থেকে ফোন আসাকালীন তিনি বান্ধবীকে নিয়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন। ২০ বছর বয়সী ডম বেস ১৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অভিজ্ঞতা লাভ করে এ সুযোগ পান। তবে, অভিষেক টেস্টে কোন উইকেটের সন্ধান না পেলেও ব্যাট হাতে সফল হয়েছিলেন। খেলায় তিনি ০/৫৯ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে জোস বাটলারের (৬৭) সাথে শতরানের জুটি গড়েছিলেন। তবে, প্রথম ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মোহাম্মদ আব্বাসের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৯-২০ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬২ ও ১/৫৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, বেন স্টোকসের অসাধারণ অল-রাউন্ডশৈলীতে স্বাগতিকরা ১৮৯ রানে পরাজয়বরণ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা বিরাজ করে।
এরপর, ১৬ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে এফ ডু প্লিসিকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৩৩। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৫/৫১ ও ১/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অলি পোপের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৩ রানে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০২০-২১ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৪ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৫/৩০ ও ৩/১০০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলনেতার অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ৪ মার্চ, ২০২১ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে অক্ষর প্যাটেলের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঋষভ পন্তের অসাধারণ শতকে ইনিংস ও ২৫ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
