|

ব্রুস ফ্রান্সিস

১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মোসম্যান এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম থেকে ১৯৭৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। আক্রমণাত্মক ধাঁচে ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে দলীয়সঙ্গীসহ দর্শকদের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেন। ফাস্ট বোলারদের মাথার উপর দিয়ে বল খেলতে অধিক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘরোয়া আসরে বেশ কাজে আসতো। মুক্তভাবে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে খেলতেন। দুই মৌসুম এসেক্সে খেলেন।

১৯৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করলেও টেস্টে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমায় দূর্বলতা ধরা পড়ে। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। বহিঃবিশ্ব একাদশের বিপক্ষে তিন টেস্টে অংশ নেন। বৃদ্ধাঙ্গুলে আঘাত পাবার পূর্বে কিঞ্চিৎ সফলতার সন্ধান পান। পরবর্তীতে ঐ খেলাগুলোর টেস্ট মর্যাদা কেড়ে নেয়া হয়।

১৯৭২ সালে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দল ইংল্যান্ড সফরে আসলে এসেক্সে খেলার পথে বাঁধার প্রাচীর গড়ে তুলে। এ সফরে দলের সদস্য হন। প্রথম তিন টেস্টে অংশ নেন। আবারও স্বল্প সফলতা পান। ৮ জুন, ১৯৭২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেভিড কোলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২৭ ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৮৯ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২২ জুন, ১৯৭২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৮ উইকেটে জয় পায় ও ১-১ ব্যবধানে সিরিজে সমতা আনে।

একই সফরের ১৩ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পরও খেলার সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেন। ১৯৭৭ সালের বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ট্রেলিয়ার বিদ্রোহী দলের সদস্যরূপে গমন করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট