|

নাজিমউদ্দীন

১ অক্টোবর, ১৯৮৫ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ লিজেন্ডস, ঢাকা ওয়ারিয়র্স ও খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের পক্ষে খেলেছেন। ১৬ বছর বয়সে ২০০০-০১ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগের পক্ষে অভিষেক ঘটে। ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তীতে বাংলাদেশ ‘এ’ ক্রিকেট দল ও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলে খেলার জন্য মনোনীত হন।

চারদিনের জাতীয় লীগ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় ঢাকার বিপক্ষে ১০৩ ও ৮২ রান সংগ্রহ করলেও ২০০৫ সালের শিরোপার সন্ধান পায়নি তাঁর দল। তবে, চমকপ্রদ ব্যাটিং নৈপুণ্যের কারণে দল নির্বাচকমণ্ডলীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। ২০০৭ সালের শুরুরদিকে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে যথেষ্ট সফলতা পান। ফলশ্রুতিতে, শীর্ষসারির মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে টি২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে অংশগ্রহণের জন্যে বাংলাদেশ দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন।

২০০৭ থেকে ২০১২ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট, ১১টি ওডিআই ও সাতটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। উগান্ডা ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণে কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত চারদেশীয় টি২০আই প্রতিযোগিতায় খেলেন। ১ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখে নাইরোবির জিমখানা ক্লাব গ্রাউন্ডে স্বাগতিক কেনিয়ার বিপক্ষে দলের প্রথম খেলায় ৩৭ বলে ৪৩ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। ঐ খেলায় বাংলাদেশ দল ৫ উইকেটে জয়লাভ করে। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় আরও ভালো করেন। ২ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখে একই মাঠে পাকিস্তানের মুখোমুখি হন। মাত্র ৫০ বল মোকাবেলায় ৮১ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দেন। এ পর্যায়ে শোয়েব আখতার, মোহাম্মদ আসিফ, ইয়াসির আরাফাতশহীদ আফ্রিদি’র বল মোকাবেলায় অগ্রসর হয়েছিলেন। মূলতঃ এ খেলার উপর ভিত্তি করেই তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলে রাখা হয়। তবে, খেলায় তাঁর দল ৩০ রানে পরাজিত হয়েছিল। এ প্রতিযোগিতায় ১৪০ রান তুলে সর্বাধিক রান সংগ্রহ করেন। বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় তেমন সুবিধে করতে পারেননি। চার খেলা থেকে মাত্র ১২ রান তুলতে পেরেছিলেন।

এরপর, ১২ মার্চ, ২০০৮ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম অংশ নেন। দুই খেলায় তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। একদিনের খেলাগুলোয় ধারাবাহিকতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি।

মাত্র সাতটি ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার পর অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে ২০০৮ সালে অনুমোদনবিহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে অংশগ্রহণ করেন। ফলে বিসিবি কর্তৃক ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। তবে, জাতীয় দলে ফিরে আসার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এক মৌসুম পরই ঐ লীগ থেকে চলে আসেন। দুই বছর পর ২০১১ সালে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের মুখোমুখি হন। ৯ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩১ ও ৭৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৮৪ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তাঁর দল।

তিন টেস্টে অংশ নেন ও দৃশ্যতঃ তাঁর ক্রীড়াশৈলী স্বাভাবিকমানের ছিল। এরপর থেকে অবশ্য আর তাঁকে খেলানো হয়নি। ২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২১ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ফিডেল এডওয়ার্ডসের শিকারে পরিণত হন। দশ উইকেটে পরাজয়বরণ করে তাঁর দল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হবার পরও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট