১২ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ তারিখে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন ফাস্ট বোলিং করতেন। পরবর্তীতে অফ-স্পিনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ৬ ফুট উচ্চতা নিয়ে বাংলাদেশের স্পিনার হিসেবে তাঁর আবির্ভূত হওয়া বেশ অপ্রত্যাশিত বিষয়। দ্রুত লম্বা হবার পূর্বেই স্পিন বোলিং আত্মস্থ করেছেন বলে এক স্বাক্ষাৎকারে জানান। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেন। ২০১৫ সালে বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন।
দীর্ঘদেহী অফ-স্পিনার তিনি। নতুন সহস্রাব্দে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদা পান। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, চিটাগং ভাইকিংস, বেক্সিমকো ঢাকা, ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র ও সিলেট থান্ডারের পক্ষে খেলেছেন।
৩ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে চট্টগ্রাম বিভাগের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় সিলেট বিভাগের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪৩ ওভার বোলিং করেছিলেন। ঐ বছরের শেষদিকে নিজ দেশে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সিরিজে ১২ উইকেট দখল করেন। ২০১৭ সালের বিপিএলে খেলোয়াড়দের খসড়া তালিকা থেকে চিটাগং কিংস কর্তৃপক্ষ তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে। ঐ বছর বিপিএলে দুইটি খেলায় অংশ নেন। এ পর্যায়ে মুশফিকুর রহিমের উইকেট দখল করেন।
উজ্জ্বীবনী শক্তির অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিত পেয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের পৃষ্ঠপোষকতায় খেলেন। চমৎকার অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। ফলশ্রুতিতে, এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ঐ প্রতিযোগিতায় দলের শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। মেহেদী হাসানের বাংলাদেশের ওডিআই দলে অন্তর্ভুক্তির ফলে এমার্জিং কাপ প্রতিযোগিতায় তাঁকে খেলার সুযোগ এনে দেয়।
২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৮ সালের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার জন্যে বাংলাদেশের টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্তির পর নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। দলের সদস্য হিসেবে মনোনয়নকালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছিলেন। টেস্ট খেলার সুযোগ না পেলেও ২২ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে চট্টগ্রামে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ পর্যায়ে ২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৫/৬১ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৬ ও ৫ রান সংগ্রহ করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মমিনুল হকের দূর্দান্ত শতকে স্বাগতিকরা ৬৪ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০ অক্টোবর, ২০২০ তারিখে বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি তাঁকে সকল স্তরের ক্রিকেটে ‘বিশাল সম্ভাবনাময়’ অল-রাউন্ডার হিসেবে চিত্রিত করেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হন। ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ১৩* ও ৯ রান সংগ্রহসহ ২/২১ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৪ উইকেটে জয় পেয়ে সফরকারীরা ১-১ ব্যবধানে সিরিজ ড্র করতে সমর্থ হয়।
২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ১৭ জুন, ২০২৫ তারিখে গলে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫/১২১ ও ১/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১১ ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
