১ জুলাই, ১৯৩৮ তারিখে জ্যামাইকার নেগ্রিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ভীতিদায়ক পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি নিখুঁততার দিকে নজর দিতেন। নমনীয়তার সাথে ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন বোলিং করে উইকেট পেলেও বেশ রান খরচ করে ফেলতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা ও ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ত্রিনিদাদের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৬/৩৩ পান।

১৯৬০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৬ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। রেগ স্কারলেটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩/১২১ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, খেলায় তাঁকে দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

দ্বিতীয় টেস্টে ৩/১০০ ও ৩/৫৭ লাভ করেন। পরের টেস্টে ৪/৬২ পান। ৯ মার্চ, ১৯৬০ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১৯৬০-৬১ মৌসুমের শীতকালে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। এ সফরেই ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টাই টেস্টের সাথে নিজেকে জড়িয়েছেন। ২০ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ব্রিসবেনে টাই টেস্টের ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেরি আলেকজান্ডার, ল্যান্স গিবসজ্যাকি হেনড্রিক্সের সাথে মিলিত হন। এ সফরে ১৬ উইকেট পেয়েছিলেন। কেবলমাত্র মেলবোর্নের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।

এ সিরিজে ওয়েস হলের সাথে বোলিং জুটি গড়েছিলেন। ওয়েস হল ইয়র্কারের দিকে মনোনিবেশ ঘটালেও তিনি তুলনামূলকভাবে কম গতিবেগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হয়েছিলেন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল ও ১৬ উইকেট পেয়েছিলেন।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে নরি কন্ট্রাক্টরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে সেলিম দুরানি’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে ১/২০ ও ০/৬ লাভ করে স্বাগতিক দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

টেস্টগুলো থেকে ৩৮.১০ গড়ে মাত্র ১৯ উইকেট পেয়েছিলেন। ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে যুক্ত থাকার ফলে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে খেলেননি। অ্যাক্রিংটনের পেশাদার ও তারকা ক্রিকেটার ওয়েস হলের পরামর্শক্রমে ১৯৬১ সালে চার্চ দল তাঁর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। এরফলে খুব কম সময়ই ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যাবার সুযোগ পেতেন। কার্যতঃ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিজেকে সড়িয়ে ফেলেন। ল্যাঙ্কাশায়ারে অবস্থানকালে হিসাবরক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রথম মৌসুমে অবশ্য গাড়ী দূর্ঘটনায় পড়লে স্বাভাবিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে পারেননি। গুটিকয়েক খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬২ সালে নেলসনে ৬/৫ পেলেও তাঁর দল পরাজয়ের কবলে পড়ে।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। রিবচেস্টারের এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। দেশে ফিরে প্রতিষ্ঠানের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরফলে, খেলোয়াড়ী জীবন শেষে বিশ্বব্যাপী সফরের সুযোগ পান। এক পর্যায়ে জ্যামাইকা ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট