২৯ জুলাই, ১৯৩৩ তারিখে বার্বাডোসের আপার ডেরেলস রোড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক, আম্পায়ার ও রেফারি। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ভীতিহীন চিত্তে মাঠে নামতেন। ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে না পারলেও নিজের সেরা দিনে স্ট্রোকপ্লের ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে প্রায় একাকীই প্রতিপক্ষকে হতাশায় ফেলতেন। ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ছন্দে থাকাকালে মাঠের সর্বত্র বল ঠেলে দিতেন। তবে, ধীরগতির বোলিংয়ের বিপক্ষে তেমন কার্যকর ছিলেন না। প্রায়শঃই যে-কোন ধরনের স্পিন বোলিংয়ে কুপোকাত হয়ে পড়তেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৬০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এ সফরেই ব্যক্তিগত একমাত্র অর্ধ-শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। এ পর্যায়ে অবশ্য স্পিনারদের বিপক্ষে বেশ রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। পিটার ল্যাশলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টাই-টেস্টের সাথে নিজেকে জড়ান। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রে অ্যালান ডেভিডসনের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি টাইয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৭ জানুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৮ ও ৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে নরি কন্ট্রাক্টরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। আইসিসি ম্যাচ রেফারি হিসেবে সব মিলিয়ে ৪২ টেস্ট ও ১১৮টি ওডিআই পরিচালনা করেছেন। ক্রিকেটের বাইরে বীমা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী ছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট