৪ এপ্রিল, ১৯৩৫ তারিখে জ্যামাইকার সেন্ট অ্যান্ড্রু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যাটিং উদ্বোধন করতেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত কিংস্টন কলেজে অধ্যয়ন করেন। এ পর্যায়ে সানলাইট কাপ ও মাইনর কাপ ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এছাড়াও, লুকাস ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। প্রত্যেক স্তরের ক্রিকেটেই অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে ১৯৬৮ থেকে ১৯৭২ সময়কালে দলটির অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। শেল শীল্ডে দলের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। জ্যামাইকার প্রধান তারকা ব্যাটসম্যানের খ্যাতি লাভ করেন। দলের ব্যাটিং মেরুদণ্ড অনেকাংশেই তাঁর উপর নির্ভর করতো। খোলা পিচের যুগে ৪০ গড়ে পাঁচ সহস্রাধিক রান তুলেছেন। ৯৫টি খেলায় অংশ নিয়ে ৪২.১৮ গড়ে ৫৯০৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা তেমন ভালো করেননি। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে নিজ দেশে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ইভান মাদ্রে ও ল্যান্স গিবসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ১২০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৬ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে শূন্য রানে রান-আউটে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ৯ মার্চ, ১৯৬০ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ মার্চ, ১৯৬২ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। সাবিনা পার্কে দলের একমাত্র ইনিংসে ১২৫ রানের মনোজ্ঞ শতরানের ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর একমাত্র শতকে পরিণত হয়। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইনিংস ও ১৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৪ এপ্রিল, ১৯৬২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ও ৫৬ রান সংগ্রহ করেন। ৭ উইকেটে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১৩ এপ্রিল, ১৯৬২ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৭ ও ৪২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১২৩ রানে জয় পেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ৫-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৬৬ সালে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ জুন, ১৯৬৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৪০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৮ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জন স্নো’র বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৪ রানে জয় পেলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
টেস্টগুলো থেকে একমাত্র শতক সহযোগে ২৬.৮৫ গড়ে রান পেয়েছেন। ১৯৭২ সালে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জ্যামাইকা সরকার থেকে অর্ডার অব ডিস্টিংকশন লাভ করেন। এছাড়াও, জ্যামাইকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে আজীবন সদস্যরূপে মনোনীত করে। এছাড়াও, তিনি লেখক ছিলেন। ‘জ্যামাইকা ক্রিকেট অ্যাজ আই সি ই: এ সিলেকশন ফ্রম দি আর্কাইভস, ১৮৫০ – ১৯৭০’ প্রকাশ করেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। জ্যামাইকা ক্রিকেট বোর্ডের দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। জ্যামাইকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ডেভেলপম্যান্ট কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালে জর্জ হ্যাডলি সেন্টেনারি প্ল্যানিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, জ্যামাইকায় রেডিও ও টেলিভিশনে ক্রিকেট বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এভরি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে। কিছুকাল অসুস্থ থাকার পর ৮৬ বছর ৩০৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
