২০ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের ওয়ালসগ্রেভ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘হর্স’ ডাকনামে ভূষিত জিমি অরমন্ড ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। নানিটনভিত্তিক সেন্ট টমাস মুরে অধ্যয়ন করেছেন। শক্ত মজবুত ও দীর্ঘকায় গড়ন নিয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন বোলিং করতেন। নতুন বলে সুইং আনয়ণসহ বলকে অতিরিক্ত উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলার পর ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে পেশাদারী পর্যায়ে লিচেস্টারশায়ার ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টি প্রমাণিত হবার পর ১ মে, ২০০৮ তারিখে সারে কর্তৃপক্ষ তাঁর সাথে এক বছর মেয়াদে চুক্তিবদ্ধ হয়। তরতর করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। সারে দলের পক্ষে চমৎকার ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন।
২০০১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র দুই টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ আগস্ট, ২০০১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শেন ওয়ার্নের স্মরণীয় বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৫ রানে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০১-০২ মৌসুমে জিম্বাবুয়ে সফরে একদিনের দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। তবে, আঘাতের কারণে দল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তী শীতকালে ২০০১-০২ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে ভারত ও নিউজিল্যান্ড সফরে অংশ নেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় ও সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অনিল কুম্বলে’র স্মরণীয় অল-রাউন্ড সাফল্যে সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর টেস্টে সর্বশেষ অংশগ্রহণ ছিল।
ঐ টেস্টের পর ওজনের ভারসাম্যহীনতার কবলে পড়েন। এছাড়াও, শার্টবিহীন অবস্থায় তাঁকে অনুশীলন করতে দেখা যায়। এরফলে, তৎকালীন ইংরেজ কোচ ডানকান ফ্লেচার তাঁকে দলের বাইরে রাখেন। এরপর আর তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিতে দেখা যায়নি।
সারে দলে চলে আসেন। এ সময়েও অনেক শীর্ষসারির খেলোয়াড়ের অন্যতম ছিলেন। তবে, ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সারে দলের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন।
