৫ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে বার্বাডোসের স্প্রিংহেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

স্বল্প দূরত্ব নিয়ে দ্রুতগতির বোলিং করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বর্ডার এবং ইংরেজ ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার, নটিংহ্যামশায়ার, সাসেক্স ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, স্কটল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। নটিংহ্যামশায়ারের ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ১২ টেস্ট ও ৩৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন পেসার হিসেবে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২৫ বছর বয়সে ৮ মার্চ, ১৯৯৫ তারিখে নিজ শহর বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। কোর্টনি ওয়ালশ, কার্টলি অ্যামব্রোস ও উইনস্টন বেঞ্জামিনের সাথে বোলিং করে মন্দ করেননি। ৯.৫ ওভারে ১/৩৯ লাভ করেন। পাঁচটি ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে খুব কমই সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। তিন উইকেট দখল করেছিলেন ও ২৫ রান তুলতে পেরেছিলেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁকে বাদ দেয়া হয়।

সেপ্টেম্বর, ২০০২ সালে ৩৩ বছর বয়সে আবারও তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। সাত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থেকে ত্রিশের বয়সে এসেও বেশ প্রভাব ফেলেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলতে এসে ২৯টি ওডিআই থেকে ২২.৬৮ গড়ে ৪৮ উইকেট দখল করেছিলেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। জ্যাক ক্যালিসের উইকেট পান। চমৎকার ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখলেও দল শুরুতেই বিদেয় নেয়।

২০০২-০৩ মৌসুমে রিডলি জ্যাকবসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৮ ডিসেম্বর, ২০০২ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/৬১ ও ৩/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়ে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জার্মেইন লসনের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩১০ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে টেস্টে বোলিং করেছিলেন। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫/৩৯ নিয়ে দলকে জয় এনে দেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে ২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের বিজয়ে অপূর্ব ভূমিকা রাখেন। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

২০০৩ সালে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১১২ ও ১/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৪ ও ২৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। রিকি পন্টিংয়ের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১১৮ রানে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৩-০৪ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৬ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/১০১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩৫ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। হার্শেল গিবসের দূর্দান্ত শতকের উপর ভর করে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

চারজন ব্যাটসম্যানের অন্যতম হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে টাইমড আউট হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মহিলা দলের কোচ হিসেবে দলকে নিয়ে ভারত সফর করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ডিসি ড্রেকস নামীয় সন্তানের জনক।

সম্পৃক্ত পোস্ট