১২ আগস্ট, ১৯২৩ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
জ্যামাইকার বিখ্যাত ক্রিকেটার জে. কে. হল্ট সিনিয়রের পুত্র ছিলেন। পিতার ন্যায় তিনিও ভীষণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ইতিবাচক খেলা উপহারে অগ্রসর হতেন ও মুক্তভাবে স্ট্রোক মারতেন। কাট ও পুলে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে কমনওয়েলথ একাদশের সদস্যরূপে উপমহাদেশ গমন করেন।
১৯৫৪ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিজ দেশে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্লিফোর্ড ম্যাকওয়াট ও মাইকেল ফ্রেডরিকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অবিস্মরণীয় ব্যাটিংশৈলী উপহার দেন। তবে, আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হন ও ৯৪ রানে এলবিডব্লিউতে বিদেয় নেন। এরফলে, বেশ দাঙ্গা-হাঙ্গামায় খেলা পণ্ড হবার উপক্রম হয়েছিল। ক্ষীপ্ত দর্শকেরা আম্পায়ারদ্বয়ের বাড়িতে আক্রমণ করে। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রান তুলেছিলেন। ১৪০ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখে ১৬৬ রান তুলেন। কেবলমাত্র বাউন্ডারি থেকেই ১১০ রান হাঁকিয়েছিলেন। দ্বিতীয় উইকেটে ফ্রাঙ্ক ওরেলের সাথে ২২২ রানের জুটি গড়েন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ক্লাইড ওয়ালকটের মনোরম দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
পরবর্তী দুই টেস্টে অপরাজিত ৪৮; ৬৪ ও ৪০ রান তুলেন। এরপর থেকে তিনি খেঁই হারিয়ে ফেলেন। দৃশ্যতঃ অধিনায়ক স্টলমেয়ারের যোগ্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের উপযোগী ছিলেন। তবে, শীর্ষসারিতে অ্যালান রে’র আধিপত্যে তাঁকে বেশ প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল।
একই সফরের ৩০ মার্চ, ১৯৫৪ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ০ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৯ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়।
১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেশ কয়েকটি ক্যাচ মুঠোয় পুড়তে পারেননি। ব্রিজটাউনের দর্শকেরা এক বছর পূর্বে তাঁর শতকে যেমন উৎফুল্ল ছিল; এবার তাঁরা বেঁকে বসে। জ্যামাইকার সাবেক ফাস্ট বোলার লেসলি হিল্টনকে স্ত্রী হত্যার দায়ে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোঁলানোর প্রতিবাদে একদল দর্শক ‘সেভ হিল্টন, হ্যাং হল্ট’ প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরে।
১৯৫৫ সালে নিজ দেশে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ এপ্রিল, ১৯৫৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫ ও ২১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৬ এপ্রিল, ১৯৫৫ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১১ জুন, ১৯৫৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৮২ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে জেরি আলেকজান্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ভারত ও পাকিস্তান গমন করেন। মাদ্রাজ টেস্টে ৬১ ও অপরাজিত ৮১ রান তুলেন। দিল্লিতে ১২৩ রানের নিজস্ব দ্বিতীয় শতক হাঁকান।
৬ মার্চ, ১৯৫৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৪১ রান পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪১.৩৪ গড়ে নয় শতক সহযোগে ৪২৫৮ রান পেয়েছেন। ১৯৭৬ সালে জ্যামাইকার সর্বোচ্চ সম্মাননা অর্ডার অব ডিস্টিংকশন লাভ করেন। ৩ জুন, ১৯৯৭ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে ৭৩ বছর ২৯৫ দিন বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
